অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বারবারা বুশ, তার পরিচয় - যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট H W Bush এর স্ত্রী এবং আর এক প্রেসিডেন্ট George W Bush এর জননী। তবে ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী – সন্তান ও সংসারের প্রতি তার স্নেহ-ভালবাসা, সমাজে শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে তার আন্তরিকতা First Lady বারবারা বুশকে বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মারিয়ামা ডিয়ালোর প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত শোনা যাক রোকেয়া হায়দারের কাছে।

৮০র দশকের শেষভাগে আর ৯০এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডী ছিলেন বারবারা বুশ আবার প্রায় এক দশক পেরিয়ে হোয়াইট হাউসে এলেন এক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশের মা বারবারা বুশ। ফার্স্ট লেডী হিসেবে দায়িত্ব পালন, তারপর সমাজের নানা কাজে সময় কাটানোর মধ্যেও তার চিন্তা-ভাবনা জুড়ে ছিল পরিবার সন্তান সংসার।

তার কথায় ‘কেউ যদি আমার ব্রিলিয়ান্ট স্বামীর সমালোচনা করে আমি একেবারেই পছন্দ করি না, আর আমার ছেলের যদি কেউ সমালোচনা করে আমি দারুণ ক্ষুব্ধ হই।’

জন্ম ১৯২৫ সালের ৮ই জুন ১৯৪৫ সালে। জর্জ এইচ ডব্লু বুশ যুদ্ধে বৈমানিক হিসেবে যোগ দেবার ঠিক আগে তাদের বাগদান। সেইসময় জর্জ বুশের আবেগ অনুভুতি কেমন ছিল?

তিনি বলেন, ‘আমি অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে আমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কথা ভাবতাম, যে দেশকে আমি ভালবাসি এবং সেই বারবারা নামের মেয়েটির কথা ভাবতাম।’

তারই কার্যালয় থেকে গতকাল জানানো হলো ৯২ বছর বয়সে বারবারা বুশের মৃত্যর কথা। আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হযেছে।

তিনি ছিলেন সহজ – বিনম্র – এবং হাসিখুশী মেজাজের মানুষ। শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি সবচাইতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। সবসময় লেখাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরতেন এবং হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান কর্মসুচীতে তিনি পড়া এবং লেখার গুরুত্বটা কি সে কথাই বলতেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন বারবারা বুশ ফাউণ্ডেশন ফর ফ্যামিলি। তার কথা ছিল পড়া এবং লেখার ক্ষেত্রে যোগ্যতা দেখেই শিশুদের আর কোন সমস্যা আছে কিনা তা বোঝা যায়।

টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক ন্যান্সী বেক ইয়াং বলেন, ‘তিনি সোজা কথার মানুষ ছিলেন। তার বক্তব্য কাজকর্ম সবই জানা। তার প্রেস সচীবকে বলতেন আমি যা বলি যা করি, সবকিছুরই রেকর্ড রয়েছে, আমি যদি কিছু বলেছি, হ্যাঁ সেটাই বলেছি।’

তিনি নিজে বলেছেন – আমি যখন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হলাম তখন যেন বিপাকে পড়লাম। এই মানুষটি যাকে সঙ্গে নিয়ে লিটল লীগের খেলায় যাওয়ার জন্য কারপুলে বেড়িয়েছি, যাকে বলেছি – দয়া করে নিজের কামরাটি গুছিযে রাখো। আর এখন তাকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা সত্যিই অবাক ব্যাপার।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা স্মরণ করছি। ১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সমাজ কল্যাণ কাজে জড়িত স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য প্রেসিডেন্ট বুশের বিশেষ কর্মসুচী Thousand Points of Lightএর এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ছিল। যুক্তরাষ্ট্র তথ্য সরবরাহ সংস্থা USIAর দুই সদস্য এবং ভয়েস অফ আমেরিকা থেকে আমি মোট তিনজন আমরা গিয়েছিলাম সেই সম্মানিত পুরস্কার গ্রহণের জন্য।

প্রেসিডেন্ট বুশের কাছ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা হাত মেলানোর পর্ব শেষ হবার পর হাসিমুখে বারবারা বুশ প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবীর কাছে এগিযে এলেন। সবার কাছে জানতে চাইলেন কে কি কাজ করছি। আমার হাতে ক্যামেরা ছিল, ছবি তুলবো কিনা কিছুটা দ্বিধান্বিত কিন্তু তখনই হোয়াইট হাউসের ক্যামেরাম্যান এগিয়ে এলেন বারবারা বুশ আমাদের তিনজনকে নিয়ে একসঙ্গে দাঁড়ালেন। ফার্স্ট লেডীর পাশেই ঢাকাই জামদানী পরে বাঙালী এক মহিলা - স্মৃতিতে অম্লান সেই ছবি।

XS
SM
MD
LG