অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক ভালো হয়েছে- বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু


ভয়েস অব আমেরিকার ফার্সি বিভাগের সঙ্গে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী আরব দেশগুলো নিয়ে ইসরাইলের পরিকল্পনা ও ইরানের পারমানবিক চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের চিন্তাভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন।

ভয়েস অব আমেরিকার ফার্সি বিভাগের সঙ্গে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী আরব দেশগুলো নিয়ে ইসরাইলের পরিকল্পনা ও ইরানের পারমানবিক চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের চিন্তাভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন।

ওয়ারসোতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা সম্মেলন থেকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারের বিশেষ অংশগুলোর বঙ্গানুবাদ শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:03:06 0:00

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিলো এই সম্মেলনের পর ইরান বিষয়ে তার এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে ইউরোপিয় দেশগুলো ঐক্যমতে আসার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা? উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন কিছু কিছু ইউরোপীয় দেশ ইতিমধ্যেই একম পোষণ করেছে। বাকীরাও করবে বলে তার বিশ্বাস।

“কিছু আরব দেশ সহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ৬০ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এই সম্মেলনে উন্মুক্ত আলোচনা করেছি। ইসরাইল এবং আরব দেশগুলো একমত যে ইরানি শাষনের প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা জানি ইরান আমাদের শত্রু নয়; বন্ধু। ইরানের শাষকরা হচ্ছে এখন আমাদের জন্য ভিতি সৃষ্টিকারী। এটা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। এবং কোনো কোনো ইউরোপীয় দেশই এর সঙ্গে একমত। বাকীদের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিৎ”।

ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় তিনি আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক ভালো হয়েছে এমন দাবী করলেও অনেক আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে কাজ করতে রাজী নয় কেনো?

উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, ক্রমান্বয়ে সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে এবং পুরোপুরি হতে আরো সময় লাগবে, “বিপ্লবের আগে আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। বানিজ্য, পর্যটন, নিরাপত্তা, সকল ক্ষেত্রেই মিত্রতা ছিল। কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিলো। আরব বিশ্বের সঙ্গে এখন আবার তা পূন:প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। জর্ডান ও মিশরের সঙ্গে শান্তি চুক্তি হয়েছে। আরব বিশ্ব জানে ইরানের প্রভাব সর্বত্র। ইরানের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমে আরো ভালো হবে”।

ইরানের পারমানবিক কর্মসূচী সম্পর্কে মত জানতে চাইলে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার উদ্বেগ এটি নয় যে ইরান পারমানবিক চুক্তির বরখেলাপ করছে; বরং আমার উদ্বেগ হচ্ছে যে ইরান চুক্তিটি অব্যহত রাখছে। এটি একটি বাজে চুক্তি। এতে পারমানবিক কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর নামে ইরান যে লক্ষ কোটি ডলার পাচ্ছে তা হাসপাতাল বা পানি পরিস্কার বা স্কুল করায় ব্যায় হচ্ছে না। যাচ্ছে হুতি, হেযবুল্লাহ ইরাক সিরিয়ার শিয়া জঙ্গীদের কাছে”।

হেযবুল্লাহসহ ইরান যেসব জঙ্গী গোষ্ঠিকে সহায়তা করছে বলে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারনে কি তাতে কোনো প্রভাব পড়বে? এ প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, “নিশ্চয় পড়বে। হেযবুল্লাহ হুতি হামাস কে অর্থ যোগান কমে যাবে”।

ইসরাইল সিরিয়ায় ইরানী টার্গেট করে আঘাত করছে, তা কতোটা সফল? এতে করে কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে না? উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান বলেছে তারা ইসরাইলের ঈহুদীদের নিশ্চিহ্ন করবে। তারা ইসরাইলকে ধ্বংস করতে চায়। প্রতিদিন, ঘন্টায় দুবার করে তারা তা বলে। এতে আমরা কি করতে পারি। কেউ বলছে আমরা আপনাকে মেরে ফেলবো। আপনার দেশ ধ্বংস করে দেবো। আপমাদেরকে তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা তাই করছি”।

ইরানের দূর পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন আপনি; কেনো?

“ইরান ইসরাইলকে নানা হুমকী দিচ্ছে। ইরানীদের মধ্যে যারা শাষকদের বিরুদ্ধে মত পোষন করে তাদেরকে; ইরানী জনগনকেই খুন করছে। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যারা প্রগতিশীল ইরানী রয়েছেন, তাদেরকে কৌশলে খুন করছে ইরানী শাষক গোষ্ঠি। এটা আমি বিশ্বকে বারবার বলছি।“

ইরানী শাষকদের বিরুদ্ধে দেশের মধ্যে ইরানীদের প্রতিবাদকারী গোষ্ঠি সম্পর্ক মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইরানীরা একটি সমৃদ্ধ জাতী, মেধাবী জাতি। তাদের রয়েছে সমৃদ্ধে সংস্কৃতি, গর্ব করার মত অতীত। যে সাহসী ইরানীরা শাষক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস করছে তাদের তা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ”।

XS
SM
MD
LG