অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তালিবান বলছে প্রস্তাবিত নতুন আফগান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক তৈরি করতে চেষ্টা করবে


৩১ আগস্ট, ২০২১ আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর সাংবাদিকরা হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে তালিবান কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেন ফটোঃ এপি

খুব শীঘ্রই আফগানিস্তানে তালিবান তাদের প্রস্তাবিত সরকার ঘোষণা করতেযাচ্ছে। তারা বলছে যে "পারস্পরিক শ্রদ্ধার" উপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চায়।

তালিবান একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য বিল্লাল কারিমি ভিওএ-কে জানিয়েছেন যে ঐ ঘোষণার কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি তবে এটি "খুব শীঘ্রই" করা হবে। তিনি এই প্রতিবেদনের জবাবে বলেন, ইসলামপন্থী আন্দোলন শুক্রবার তাদের সরকার ঘোষণা করতে পারে।

তালিবানের দেওয়া এইঅঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দৃষ্টি রাখা হয়েছে যে তারা তাদের শাসন ব্যবস্থায় সমস্ত আফগান জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবে এবং মানবাধিকারকে তারা সম্মান করবে, বিশেষ করে নারীদের প্রতি। এর আগে আফগানিস্তানে এই শাসকগোষ্ঠী যে কট্টরপন্থা অবলম্বন করেছিল তা না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

কারিমির কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তাদের প্রস্তাবিত শাসন ব্যবস্থা তাদের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে আসবে কীনা, ভিওএ-কে কারিমি বলেন "এটা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ও টেকসই ব্যবস্থা বা সরকার হবে। ইতোমধ্যে অনেক দেশের সাথে আমাদের খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা “কোন সমস্যা" আশা করি না।

ব্রিটেন শুক্রবার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে তারা নিশ্চিত করবে, তালিবানযে আশ্বাস দিয়েছে "সেই কথার মত কাজও করছে।"

কারিমি সংবাদ মাধ্যমের এই রিপোর্টকে "ভুল" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে তালিবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং তাদের রাজনৈতিক ডেপুটি মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার নতুন সরকারের নেতা হবেন এবং প্রস্তাবিত সরকার গঠনও কিছুটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরানের ক্ষমতাসীন শাসন ব্যবস্থার মতো হবে ।

তালিবান গত মাসে আফগানিস্তানের রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয়। এর আগে বিস্ময়করভাবে দ্রুত সামরিক বিজয়ের পরে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ৩৩টি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ দখল করে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা আফগানিস্তানের জন্য আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তবে তারা ভবিষ্যত তালিবান সরকারের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত তা পুনরায় যুক্ত করবেন।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত এবং দারিদ্র্যপীড়িত দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির সামনে ক্রমবর্ধমান মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটসহ একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

কারিমি ওয়াশিংটনের সাথে কাবুলের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে খুব উচ্চকন্ঠ।

তিনি বলেন, “ইসলামিক আমিরাত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্যের ভিত্তিতে আমেরিকার সাথে ভাল কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।”

XS
SM
MD
LG