অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আটক রাখা সম্পত্তি না পেলে তালিবান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নীতি ‘পুনর্বিবেচনা’ করবে 


তালিবান যোদ্ধারা কাবুলে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আটক রাখা সম্পত্তির ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের ওপর নজর রাখছেন, ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২২,ছবি/হুসেইন মাল্লা/এপি

আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী ইসলামী শাসকেরা জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে আটকে রাখা ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ যদি ফেরত না দেয়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের নীতি পুনঃবিবেচনা করতে পারে।

গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন এক নির্বাহী আদেশ বলে ব্যাংকগুলোকে মানবিক সহায়তা বাবদ আটক সম্পদের ৩৫০ কোটি ডলার একটি ট্রাস্ট ফান্ডে জমা রাখার আবেদন জানিয়েছেন। বাদবাকি ৩৫০ কোটি ডলার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের মামলা খরচ বাবদ ব্যবহার করা হবে, বিশেষত ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের বেলায়, যাদের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সোমবার তালিবানের জারি করা এক বিবৃতিতে একজন মুখপাত্র জানান, ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে "আফগানিস্তানের কোনই সম্পর্ক নেই"। মুখপাত্রটি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবস্থানে পরিবর্তন না আনে এবং উষ্কানিমূলক পদক্ষেপ বজায় রাখে তা হলে ইসলামী আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে"। ইসলামী আমিরাত অর্থে দেশটির সরকারি নাম হিসাবে তিনি আফগানিস্তানের কথা উল্লেখ করেন।

১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার সময় তালিবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল এবং আল কায়দা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে ওসামা বিন লাদেনকে সেখানে আশ্রয় দিয়েছিলো। বিন লাদেনকে ওয়াশিংটনের কাছে সমর্পণের দাবি নাকচ করা হলে, হামলার কয়েক সপ্তাহ পরে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত অভিযানে তালিবানকে অপসারণ করা হয়।

গত অগাস্ট মাসে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্রায় ২০ বছর ধরে চলতে থাকা যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার মতে আফগানিস্তান ৪ দশকের বেশি সময় ধরে সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট বিশ্বের সবচাইতে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কটের মুখোমুখি।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার শেষে জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী দেশটির ক্ষুধাপীড়িত জনগণের অর্ধেকের বেশি, প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ জনগণ এখন চরম খাদ্যাভাবের মুখোমুখি এবং এ বছরের শেষ নাগাদ ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১০ লক্ষ শিশুর ক্ষুধাজনিত কারণে মৃত্যু হতে পারে।

[এই প্রতিবেদনের কিছু কিছু অংশ রয়টার্স ও এএফপি মাধ্যম থেকে নেয়া]

XS
SM
MD
LG