অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর দাবি— সেনা প্রত্যাহার নয় বরং ইউক্রেন সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে রাশিয়া


ক্রিমিয়ার অপুক এলাকায় রাশিয়ার সেনা মহড়ার সময় ছোঁড়া রকেট। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হ্যান্ডআউট থেকে নেয়া ছবি। ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২। (রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়/ রয়টার্স)

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বুধবার বলেছে মস্কোর সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের বেশিরভাগ অংশ ঘেরাও করছে এবং তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। নেটো প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গও একই মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সংবাদদাতাদের বলেন, "আসলে, কম নয় বরং আরও বেশি রুশ বাহিনী ইউক্রেন সীমান্তে রয়েছে এবং উদ্বেগের কথা হলো, তারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছে।"

নেটো সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বলেছেন যে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার সামরিক সেনা প্রত্যাহারের কোনো প্রমাণ নেই এবং রাশিয়া এখনো “কোনো পুর্ব সতর্কতা ছাড়াই ইউক্রেনে পুরোদস্তুর হামলা চালাতে সক্ষম”।

রাশিয়া মঙ্গলবার ও বুধবার রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ কিছু ঘাঁটিতে সামরিক মহড়ার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। এ সময় তারা ভিডিও প্রকাশ করে বলে, সামরিক ইউনিটগুলো তাদের ঘরোয়া ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে।

স্টলটেনবার্গ ব্রাসেলসে নেটো প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বলেন, একটি রুশ সেনাদলের গতিবিধি থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয় না এবং পূর্ববর্তী আরেক ঘটনায় রাশিয়া একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। কিন্তু সাজ-সরঞ্জাম ঘাঁটিতেই ছেড়ে যায়, যাতে করে পরে সহজেই সেনারা ফিরে আসতে পারে।

তিনি বলেন, নেটো প্রত্যক্ষ করছে বাস্তবিক অর্থে সেনা প্রত্যাহারের পরিবর্তে রাশিয়া তার সামরিক সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। তবে তিনি বলেন, তিনি আশা করেন যে রাশিয়া সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নেবে এবং “সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতির পথ বেছে নেবে”।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বুধবার বলেছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনার পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সংলাপে বসার ইচ্ছাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

বাইডেন মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের “এখনো অনেক সম্ভাবনা” রয়েছে এবং তিনি পুতিনের প্রতি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান অথবা গুরুতর পরিণতির মেনে নিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

“দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ একটি প্রয়োজনীয় যুদ্ধ ছিল”, বাইডেন বলেন। “কিন্তু যদি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে, তাহলে সেটা হবে তাদের নিজেদের বেছে নেওয়া, অথবা কোনো কারণ ছাড়াই যুদ্ধ। আমি এসব কথা বলি উসকানি দেওয়ার জন্য নয়, সত্য কথা বলার জন্য, কারণ সত্য বলা জরুরি। জবাবদিহিতা জরুরি। যদি রাশিয়া সামনের দিনগুলোতে আক্রমণ করে, তাহলে ইউক্রেনকে হয়তো চরম মানবিক মূল্য দিতে হবে, কিন্তু রাশিয়ার জন্য পরিণাম হবে কৌশলগত। রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা চালায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দার সম্মুখীন হবে। বিশ্ব ভুলে যাবে না যে, রাশিয়া অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু এবং ধ্বংস বেছে নিয়েছে। ইউক্রেন আক্রমণ করা একটি স্বঘোষিত ক্ষত হিসেবে প্রমাণিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্র ও অংশীদারেরা স্বভাবতই এর জবাব দেবে।”

বাইডেন বলেন, “নতুন অস্ত্র–নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নতুন স্বচ্ছতা ব্যবস্থা, নতুন কৌশলগত স্থিতিশীলতা”সহ রাশিয়ান এবং নেটো নিরাপত্তা উদ্বেগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে।

মঙ্গলবার পুতিন বলেন, তিনি ইওরোপে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং সামরিক মহড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার নেটো মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

ক্রেমলিনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের সঙ্গে সাক্ষাতের পর, পুতিন বলেন, যদিও পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেন এবং অন্য প্রাক্তন সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলোর জন্য সম্ভাব্য নেটো সদস্যপদ বাতিল করার এবং রাশিয়ার নিকটবর্তী পূর্ব ইওরোপে পশ্চিমা সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ মস্কোর মূল দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, তথাপি তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে ইচ্ছুক।

[এই প্রতিবেদনের জন্য কিছু তথ্য দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এজেন্সd ফ্রান্স-প্রেস এবং রয়টার্স থেকে নেওয়া হয়েছে]

XS
SM
MD
LG