অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন—“আঘাত হানুন, এখনই আঘাত হানুন”


ইউক্রেনের প্রতি রাশিয়ার আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে জাপানে বসবাসকারী ইউক্রেনের নাগরিকেরা টোকিওস্থ রাশিয়ান দূতাবাসের সামনে সমাবেশ করেন। ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২। (ছবি- রয়টার্স)

পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে ইউক্রেন বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বাগত জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের “আরও আগ্রাসন” বন্ধ করতে দেশটির ওপর দ্রুত আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।

“গতকাল প্রথম তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং আমরা তার জন্য কৃতজ্ঞ”, তিনি বুধবার টুইট করেছেন। “এখন পুতিনকে থামাতে আরও চাপ বাড়াতে হবে। তার অর্থনীতি এবং মিত্রদের ওপর আরও আঘাত হানা হোক। আরও আঘাত। কঠোর চাপ প্রয়োগ করা হোক। এখনই আঘাত হানুন।”

যুক্তরাষ্ট্র, ইওরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, ব্রিটেন ও জার্মানি মঙ্গলবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং রাশিয়া আরও আক্রমণাত্মক আচরণ করলে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব লিজ ট্রাস বুধবার বলেছেন, “আমরা এখনো পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন দেখিনি, তবে আমরা খুব স্পষ্ট যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন যদি বাড়াবাড়ি করেন, তাহলে আমরা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের নিষেধাজ্ঞার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেব।”

এদিকে জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও অন্য দেশের সঙ্গে মিলে বুধবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, ব্রিটেন ও জার্মানির পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশ দুটি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সাংবাদিকদের বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়ানরা সবসময়ই অত্যাচারিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং আমরা আমাদের সমস্ত অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে রাশিয়াকে প্রতিহত করব”। “আমি নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে ভাবছি, এটি এই প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র।”

অস্ট্রেলিয়া রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অন্যদিকে জাপান কিছু রুশ ব্যক্তির সম্পদ জব্দ করেছে এবং জাপানে রাশিয়ান বন্ড ইস্যু করতে বাধা দিয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের “আরও আগ্রাসন” বন্ধ করতে দেশটির ওপর দ্রুত আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

“গতকাল প্রথম তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং আমরা তার জন্য কৃতজ্ঞ”, তিনি বুধবার টুইট করেছেন। “এখন পুতিনকে থামাতে আরও চাপ বাড়াতে হবে। তার অর্থনীতি এবং মিত্রদের ওপর আরও আঘাত হানা হোক। আরও আঘাত। কঠোর চাপ প্রয়োগ করা হোক। এখনই আঘাত হানুন।”

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে যে, বুধবার লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গোলাবর্ষণে একজন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিছু সামরিক কর্মকর্তাদের তলব করে একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং তিনি মঙ্গলবার একটি ভিডিও ভাষণে, দেশটির সেনাবাহিনীকে দ্রুত একত্র হতে বলেছেন।

জেলেনস্কি বলেন, “ইউক্রেনীয়রা একটি শান্তিপূর্ণ জাতি, আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আজ যদি আমরা নীরব থাকি, তাহলে আগামীকাল আমরা অদৃশ্য হয়ে যাব।”

পুতিন ইউক্রেনের সীমান্তে ১ লাখ ৫০ হাজার সেনা সমাবেশ করেছেন এবং পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এইসব অঞ্চলগুলোতে রুশ সেনা পাঠানোর আদেশ ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। পুতিন বুধবার বলেছেন যে, তিনি একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে সর্বদা সচেষ্ট।

বাইডেন মঙ্গলবার রুশ সরকারের আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং দুটি বড় ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি এ সময় ঘোষণা করেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা “আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন”।

হোয়াইট হাউসে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার সময় বাইডেন বলেন, “পুতিন কী মনে করেন, কে তাকে তার প্রতিবেশীদের ভূখণ্ডে নতুন তথাকথিত দেশ ঘোষণা করার অধিকার দিয়েছে?”

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্র এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানও রাশিয়ার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। গুতেরেস মঙ্গলবার বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাশিয়ান ফেডারেশনের কিছু অঞ্চল দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ককে তথাকথিত ‘স্বাধীনতার’ স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।”

বাইডেন রাশিয়ার সীমানার কাছাকাছি ইওরোপের অন্য দেশ থেকে পদাতিক সেনাদের চলাচল এবং বিমান সহায়তারও নির্দেশ দেন।

বাইডেন বলেন, বাল্টিক অঞ্চলে অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে “একটি দ্ব্যর্থহীন বার্তা পাঠাতে যে, যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের মিত্রদের সাথে মিলে, নেটো অঞ্চলের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করবে।”

মঙ্গলবার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর আওতায় পুতিনের কাছের তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন; আলেকজান্ডার বোর্তনিকভ, ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান; পুতিনের অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা সের্গেই কিরিয়েনকো এবং প্রমসভিয়াজব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান পিটার ফ্রাডকভ।

সোমবার ক্রেমলিনে এক বক্তৃতায়, পুতিন ঘোষণা করেছিলেন যে, ইউক্রেন কখনই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল না এবং এটি পশ্চিমের হাতের “পুতুল” নয়, বরং একটি বৃহত্তর রুশ অঞ্চলের অংশ।

“তিনি সরাসরি ইউক্রেনের অস্তিত্বের অধিকারকে আক্রমণ করেছেন”, বাইডেন পুতিন সম্পর্কে বলেন। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, হামলা না করে কূটনৈতিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে “এখনো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়ানোর সময় আছে”।

বাইডেনের দীর্ঘ-প্রতিশ্রুত নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে অন্য পশ্চিমা মিত্ররা মঙ্গলবার রাশিয়াকে তাদের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ নর্ড স্ট্রিম ২-এর অনুমোদন বন্ধ করে দিয়েছেন। রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত বাল্টিক সাগরের তলদেশে পাইপ লাইনটি সম্পূর্ণ হলেও এই প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপ লাইন এখনো সক্রিয় হয়নি। অন্তত সাময়িকভাবে জার্মানিতে সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহ রোধ করেছে কিন্তু মস্কোকে পাইপ লাইন থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে।

রাশিয়ার আইনপ্রণেতারা মঙ্গলবার পুতিনকে দেশের বাইরে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন, সম্ভবত ইউক্রেনের ওপর বৃহত্তর আক্রমণের পূর্বাভাস এটি।

নেটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ সাংবাদিকদের বলেছেন যে রুশ ট্যাঙ্কগুলো দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কের কিছু অঞ্চলে পৌঁছে গেছে।

“এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে রাশিয়া ইউক্রেনে একটি পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণের পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে”, তিনি বলেন।

[ভয়েস অফ আমেরিকার পেন্টাগন সংবাদদাতা কার্লা বাব এবং জাতিসংঘ প্রতিনিধি মার্গারেট বশির এই প্রতিবেদন লেখায় ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া এই প্রতিবেদনের জন্য কিছু তথ্য দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস ও রয়টার্স থেকে নেওয়া হয়েছে]

XS
SM
MD
LG