প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে কী করতে হবে তার বিশদ বিবরণ দিয়ে নাইরোবির বৈঠকে জাতিসংঘের পরিবেশ সংসদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তারা প্লাস্টিকের পূর্ণ জীবনচক্র সংক্রান্ত একটি ব্যাপক, আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে দুই বছরব্যাপী আলোচনার আহ্বান জানায়।
বুধবার ১৭৫টি দেশের প্রতিনিধিরা প্লাস্টিক বর্জ্য মোকাবেলা করে এমন একটি চুক্তি অনুমোদন করেছে।
জাতিসংঘ বলছে প্রতি বছর ৪০ কোটি টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয় এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এই পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।
নিজ ভূখণ্ডে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা দেশগুলোর মধ্যে রুয়ান্ডা অন্যতম। একটি প্লাস্টিক মুক্ত বিশ্বের জন্যও রুয়ান্ডা চাপ দিচ্ছে।
রুয়ান্ডার পরিবেশ মন্ত্রী জিন মুজাওয়ামারিয়া বলেছেন, প্লাস্টিক ব্যবহারের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের ফলে তার দেশ অনেক উপকৃত হবে।
২০২১ সাল থেকেই জাতিসংঘের এজেন্ডায় প্লাস্টিক দূষণকে ঘিরে বিতর্কের ইস্যুটি রয়েছে।
প্লাস্টিক কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো রিসাইক্লিং। পরিবেশগত অলাভজনক সংস্থা এনভায়রনমেন্টাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বলেছে যে প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান পদ্ধতি টেকসই নয়।
উৎপাদিত প্লাস্টিকের ১০ শতাংশেরও কম পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে ও ৭৬ শতাংশ ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে ২০৫০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের উৎপাদন তিনগুণ বাড়বে।
জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল আমিনা মোহাম্মদ বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের প্লাস্টিকবিহীন ভবিষ্যতের ব্যাপারে ভীত না হতে আহ্বান করেছেন।
প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্য হলো ২০৪০ সালের শেষ নাগাদ সমুদ্রে প্লাস্টিক নির্গমন ৮০ শতাংশ কমানো এবং সে সময়ের মধ্যে ৭ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির প্রধান ইনগার অ্যান্ডারসেন বলেছেন, ২০১৬ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্লাস্টিক চুক্তি গ্রহণ করাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি।