অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গণপিটুনিতে মৃত্যু: দায় কার


মৃতদেহ। (ছবি- অ্যাডোবি স্টক)

বাংলাদেশে ডাকাত, ছিনতাইকারী, ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা মাঝেমাঝেই ঘটে চলেছে। কখনো আবার চোর সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। আবার কোথাও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে, কোথাও সম্পত্তির বিরোধে এমন এই ধরনের হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে।

পরিসংখ্যান ও কয়েকটি আলোচিত গণপিটুনির ঘটনা

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ৮০০ জন মানুষ নিহত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর ১০০ মানুষ এমন দলবদ্ধ সহিংসতার শিকার হয়ে মারা গেছে। আসক-এর পরিসংখ্যান অনযায়ী, ২০১৯ সালে গণপিটুনির ঘটনায় মোট ৬৫ জন নিহত হয়েছেন ও ২০২০ সালে ৩৫ জন গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। ২০২১ সালে গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ঢাকা, খুলনা, সিলেটে ও বরিশালে গণপিটুনিতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে সাত বন্ধু ঘুরতে গিয়েছিলেন ঢাকার অদূরে সাভারের আমিনবাজারে। স্থানীয় দুর্বৃত্তরা এই সাত ছাত্রকে ডাকাত বলে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এতে ছয় ছাত্র মারা যান। একজন প্রাণে বাঁচেন। ১০ বছর আগের এ হত্যা মামলার রায় সম্প্রতি দেয়া হয়েছে। রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে আরও বলা হয়েছে, নিহতরা কেউ ডাকাত ছিলেন না। অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের হত্যা করেছে।

২০১৯ এর ২০ জুলাই নিজের মেয়েদের স্কুলে ভর্তির খোঁজ নিতে বাড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন রেণু নামের এক নারী। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে স্কুলেপড়া দুই মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর মহাখালীতে একা থাকতেন তাসলিমা বেগম রেণু। ছেলেধরা সন্দেহে উন্মত্ত জনতার আক্রমণে রেণুর মৃত্যু হয়।

২০১৯ এর ১২ জুলাই পটুয়াখালীতে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে দাদন মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সদর উপজেলার গেরাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাদন মিয়া মাদারীপুরের ডিগ্রিরচর এলাকার বাসিন্দা মোহন মিয়ার ছেলে। ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে গেরাখালী এলাকার বাসিন্দা সিরাজের বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন দাদন মিয়া। ওই বাড়িতে তখন তিনজন লোক ছিলেন। পরে পাশের বাড়িতে তারা মোবাইল করে বিষয়টি জানান। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ছেলে ধরা সন্দেহে দাদন মিয়াকে গণপিটুনি দেয়।

২০২০ এর ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মুসলিমদের পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন্নবী নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত শহীদুন্নবী রংপুর শহরের রোকেয়া সরণি এলাকার আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। শহীদুন্নবী রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক। মসজিদে আছরের নামাজের পর শহীদুন্নবী ধর্ম অবমাননা করেছেন, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই সময়ে হত্যা এবং মৃতদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল।

২০২২ এর ১৯ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জে বনভোজনগামী যাত্রীদের গণপিটুনিতে এক যুবক নিহতের ঘটনা ঘটে। মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে দশটায় আবু সুফিয়ান (৩৫) এবং তার বন্ধু অনিক সরকার হৃদয় (২৪) মোটর সাইকেল যোগে সাইনবোর্ড থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটিকে সি.ডি.এম ট্রাভেলস এর একটি বাস ধাক্কা দেয়। তারা কিছুদুর এগিয়ে বাসটির গতিরোধ করে। এসময় বাসের চালক, হেলপারসহ বনভোজনগামী যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে তারা। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বাসের যাত্রী, চালক ও হেলপারসহ ২০ থেকে ২৫ জন সুফিয়ান ও হৃদয়কে গণপিটুনি দেয়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক সুফিয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেন ঘটছে এই ধরনের ঘটনা

গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা ফৌজদারি অপরাধ। তবে বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে গণপিটুনিতে হত্যার বিপরীতে বিচার সংখ্যা নগন্য। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও মামলার দীর্ঘসূত্রীতার জন্য বিচার সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে সেদিন যখন খবর এলো ৫ মিনিটের মধ্যে আমি বের হয়ে পড়েছিলাম। তার আগেই স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। লালমনিরহাট সদর থেকে ঘটনাস্থল প্রায় দ্ইু ঘণ্টার দূরত্ব। আমি গিয়ে দেখলাম রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পরছিলাম না। আমি যাওয়ার আগে সেখানে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) গিয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে আমার কাছে খবর এলো যে, লোকটিকে পিটিয়ে মারার পরে বাইরে নিয়ে মরদেহে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

গণপিটুনি রোধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ সুপার বলেন, “এই ধরনের ঘটনা ঘটে যায় খুবই দ্রুত। তবে এর মধ্যে আবার কিছু লোক থাকে যারা যে কোনো পরিস্থিতি থেকেই সুবিধা নিতে চেষ্টা করে। লালমনিরহাটের ঘটনাতেও তাই হয়েছে। লোক জড়ো করা, মাইকে প্রচার করা এসব কাজ করে তারা একধরনের নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা করে।”

লালমনিরহাটে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আটক করা হয়েছে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের। এখন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শিগগিরই শুরু হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশে গণপিটুনির ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটে এমন প্রশ্ন ছিল মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান এর কাছে। ভয়েস অফ আমেরিকাকে তিনি বলেন, “যখন কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং জনসাধারণ নিজেদের হাতে আইন তুলে নেয় সেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিকশিত হয়। আবার দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও জনসাধারণের হাতে আইন তুলে নেওয়ার পরোক্ষ সুযোগ করে দেয়। বাংলাদেশে গণপিটুনির ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তা আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ড। গণপিটুনির বিচার কম হওয়ার কারণ হচ্ছে সাক্ষী পাওয়া যায় না। আবার বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিকাশ হচ্ছে।”

দেশের কয়েকটি গণপিটুনির খবর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব ঘটনায় মামলার বাদি কে হবে, তা নির্ধারণ করতেই সময় পার হয়ে যায়। আবার মামলা দায়ের হলেও সাক্ষ্যদানকারী সহজে পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে বিচারের নামে যা হচ্ছে তা শাস্তি। অর্থাৎ একধরনের প্রতিশোধ। লোকজন নিজের হাতেই যখন আইন তুলে নেয়, সেটা বিচারের প্রতি একধরনের আস্থাহীনতা। এখন দেশে যখন গণপিটুনির ঘটনা ঘটে সেটি মানুষ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় করে। আবার বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা থেকেও করে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর মামলা হয় খুব কম। আবার হলেও তা সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে বেশিদূর আগায় না।”

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সালমা আলী মনে করেন, “গণপিটুনির মতো নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনা একদিনেই ঘটে না। এরজন্য পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে না পারাও এমন ঘটনার জন্য দায়ী। আবার বাঙালিদের মধ্যে আমার মনে হয়, একটি হুজুগে ব্যাপার আছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজনকে পিটিয়ে বা কুপিয়ে মেরে ফেলার মতো ঘটনা কোনো সুস্থ সমাজে হতে পারে না। আইনের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক পরিসরে সচেতনতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক ও গবেষক রাজীব নন্দী গণপিটুনি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন। ভয়েস অফ আমেরিকাকে তিনি বলেন, “ভারতের উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, আসাম ও নাগাল্যান্ডে গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে। যেখানে সংখ্যালঘু মুসলিম বিরোধী চেতনা কাজ করে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো আধুনিক শহরে গণপিটুনির সাময়িক চেহারা দেখা গেলেও নিম্ন আয়ের অঞ্চলে গণপিটুনির ঘটনা বেশি। যেমন: নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত উপজেলাগুলোতে গণপিটুনির প্রবণতা বেশি।”

তবে গণপিটুনিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার আগে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির দিকে নজর দিতে বললেন সমাজবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান।

অপরাধ বিজ্ঞান নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ড. জিয়া রহমান বলছেন, "মানুষের ভেতরে সহজাতভাবেই দুটি প্রবৃত্তি থাকে একটি ভালো অপরটি মন্দ। এই মন্দ প্রবৃত্তি মানুষকে দিয়ে নানা ধ্বংসাত্মক কাজ করিয়ে থাকে। আমাদের দেশে (বাংলাদেশে) বিভিন্ন সময়ে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এইসবক্ষেত্রে দেখা যায়, গুজব ছড়িয়ে ঘটনাটিকে ভয়াবহতার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মানুষের ভেতরের মন্দ প্রবৃত্তিগুলো চূড়ান্ত আকার ধারণ করে।"

এইসব বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে ড. জিয়া রহমান বলেন, “বিচার নিশ্চিত করা গেলে মানুষের মধ্যে শাস্তি ভোগের ভীতি তৈরি হবে, তখন এইসব কাজে মানুষ বিরত থাকবে। কোনো দেশে যদি বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকে, সেখানে এইসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। কোনো একটি ঘটনায় যদি দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা যায় তাহলে এমন ঘটনা কমে আসবে। বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ও নিয়মিত করা হলে একসময় তা কমে আসে।”

গণপিটুনি রোধে আইন প্রণয়ন কতদূর

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণপিটুনির ক্ষেত্রে আইন থাকলেও বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত কোনো আইন নেই। ২০১৯ সালে গণপিটুনিতে রেনু বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত রিট মামলায় ২০২০ সালে হাইকোর্ট বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল। ওই নির্দেশনা অনুসারে গণপিটুনি রোধে বিশেষ আইন প্রণয়ন করার কথা বলা হলেও এখনো তা করা হয়নি।

তবে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার, এমপি বলেন, “প্রচলিত আইনেই এর বিচার করা সম্ভব। বিদ্যমান আইনে যে পেনাল কোড রয়েছে সেখানেই এই ধরনের ঘটনার বিধান আছে বলে আমি মনে করি। তাই এখনই নতুন করে আইন করার প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।”

২০১৯ সালে গণপিটুনিতে রাজধানী ঢাকার বাড্ডায় রেনু বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা এক রিট মামলার প্রেক্ষিতে ২০২০ সালে হাইকোর্ট বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল, তা পালনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে গণপিটুনি রোধে এখনই নতুন আইনের বিষয়টা ভাবা হচ্ছে না।”

XS
SM
MD
LG