অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে কূটনীতিকরা


ভিয়েনায় জয়েন্ট জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশ ‘এর বৈঠক স্থলের ছবি ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

একদিকে যখন ইউক্রেনে যু্দ্ধ চলছে, তখন অপরদিকে সংঘাতটির ফলে মনোসংযোগ নষ্ট হলেও, কূটনীতিকরা ২০১৫ সালের প্রায় ক্ষীণ হয়ে যাওয়া ইরান পারমাণবিক চুক্তিটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় আলোচনায় এগিয়ে চলেছেন। এখন মনে হচ্ছে যে, তারা এমন একটি সমঝোতার নাগালের মধ্যে রয়েছেন, যেটি যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও চুক্তিটিতে ফিরিয়ে আনবে এবং ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমারেখা প্রতিপালনে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

ভিয়েনায় ১১ মাস ধরে বিক্ষিপ্ত আলোচনার পর, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এবং অন্যান্যরা বলছেন যে, আর মাত্র অল্প কিছু বিষয়েই সমঝোতা হওয়া বাকি রয়েছে। অপরদিকে, ইউক্রেন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে চুক্তিটি থেকে ছিটকে যাওয়ার রাশিয়ার হুমকিটি থেকেও, দেশটি সরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন হুমকির ফলে একটি দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল।

এর ফলে একটি চুক্তি বা নিদেনপক্ষে একটি নীতিগত সমঝোতার বিষয়টি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপর নির্ভর করছে। তবে, অনেকক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র, উভয়ই সেসব সিদ্ধান্তের দায়ভার অপর পক্ষের উপর বর্তানোর কথা বলে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে সমঝোতার বিষয়টি ঝুলেই থাকে , যদিও সংশ্লিষ্ট সকলেই একমত যে, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি এবং যথাসম্ভব দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র নেড প্রাইস বুধবার বলেন, “আমরা একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাছাকাছি রয়েছি, তবে এখনও সেখানে পৌঁছুতে পারিনি”। তিনি আরও বলেন, “আমরা নিকট ভবিষ্যতেই জানতে পারব যে আমরা সেখানে পৌঁছুতে পারি কিনা”।

এদিকে বুধবার বার্লিনে, জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার বারগার বলেন “একটি চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া তৈরির [কাজ] সমাপ্ত হয়েছে” এবং “এখন প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সংশ্লিষ্ট রাজধানীগুলোতে গ্রহণ করতে হবে”।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি যে এই আলোচনাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে”।

জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন বা জেসিপিওএ নামে পরিচিত ২০১৫ সালের এই চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাইডেন প্রশাসনের জন্য একটি অগ্রাধিকার ছিল।

XS
SM
MD
LG