অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুল খোলার তালিবানের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ


আফগানিস্তানের হেরাতের তাজরোবাওয়াই গার্লস হাই স্কুলের ক্লাসে পড়ছে মেয়েরা। ২৫শে নভেম্বর, ২০২১।

আফগানিস্তানের তালিবান শুক্রবার জানিয়েছে যে, তারা সপ্তম ও তার ওপরের শ্রেণীর সব ছাত্রীকে স্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেবে। জাতিসংঘ এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে।

তালিবানের শিক্ষা মন্ত্রক বলেছে, শীতের ছুটি শেষ হলে পরের সপ্তাহে সমস্ত স্কুল আবার চালু হবে এবং এ বছর দেশে কোনো স্কুল বন্ধ করা হবে না।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার এক টুইটে বলেছেন, “২২ মার্চ বালিকা ও বালকদের জন্য পুনরায় স্কুল চালু করার তালিবানের ঘোষণাকে স্বাগত জানাই, যা এখন অবশ্যই অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হতে হবে।“ তিনি আরও বলেন,“বালিকা ও বালকদের জন্য শিক্ষাগ্রহণ ও তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছানোর সমস্ত দরজা খোলা থাকতে হবে।“

আফগানিস্তানের নারী শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

গত আগস্টে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়কে তালিবান বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে, আফগানিস্তানে তারা এবার ভিন্নভাবে শাসন চালাবে এবং শিক্ষার পাশাপাশি নারীদেরকে কাজের সুযোগ দেয়া হবে।

এ প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কাবুলের শুধুমাত্র পুরুষ দ্বারা গঠিত তালিবান সরকার সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায় সংশয় ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে বলে যে, তালিবান সরকারের অন্তর্ভুক্তির অভাব রয়েছে। কট্টরবাদী গোষ্ঠীটি আফগান নারীদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো আফগান নারীদের ওপর তালিবানের বিধিনিষেধ আরোপ করার সমালোচনা করেছে।

২০ বছর পর গত আগস্টের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী দেশগুলোর সামরিক বাহিনীকে এলোমেলো ভাবে প্রত্যাহার আফগানিস্তানের মানবিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যুদ্ধ ও ক্রমাগত খরা থেকে উদ্ভূত এই সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

তালিবানের দখলদারিত্ব পশ্চিমা দেশগুলোকে অবিলম্বে আফগানিস্তানে মানবিক সাহায্য ব্যতীত অন্যান্য আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা এবং ব্যাংকিং বিধিনিষেধ আরোপ করাকে ত্বরান্বিত করেছে যা ইতোমধ্যে ভঙ্গুর একটি অর্থনীতিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

XS
SM
MD
LG