অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আন্তর্জাতিক কোভিড–১৯ সহায়তায় তহবিল সংকটে যুক্তরাষ্ট্র


চীনের সাংহাই-এ লকডাউন চলাকালে ডেলিভারি হস্তান্তর করা হচ্ছে। সেখানে নতুন করে কোভিড সংক্রমণ শুরু হয়েছে। মার্চ ১৫, ২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা এই সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাক্ষরিত বিশ্বব্যাপী মহামারী সহায়তায় প্রণীত একটি সর্বজনীন ব্যয় বিল থেকে তহবিল সংকোচন করায় বাইডেন প্রশাসনের বিশ্বব্যাপী কোভিড টিকা সহায়তার উদ্যোগটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

দেড় ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিলটিতে কোভিড প্রতিক্রিয়ার জন্য অনুরোধকৃত ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিশ্বজুড়ে করোনভাইরাস মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি শুক্রবার (১৮ মার্চ) এক ব্রিফিংয়ের সময় ভয়েস অফ আমেরিকাকেকে বলেন, প্রশাসনের প্রতিশ্রুত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডোজ থেকে অবশিষ্ট ৭০০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করার জন্য কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই।

“ভ্যাকসিনের পৃষ্ঠপোষকতা করতে আমাদের অতিরিক্ত তহবিল দরকার”, তিনি বলেন। “আমাদের এমন কোনো গোপন তহবিল নেই, যেটা দিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যে ধরনের বিনামূল্যের কর্মসূচিগুলো চালাই বা যে স্তরের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রদান চালিয়ে যেতে চাই, যার সম্পর্কে আমরা আপনাদের অবহিত করিনি”।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। তবে তহবিলের অভাব প্রাপক দেশগুলোর জন্য কার্যকরভাবে টিকা প্রদানের সুযোগ নষ্ট করবে। এ ছাড়া মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এমন দেশগুলোতে পরীক্ষা, থেরাপিউটিক, অক্সিজেন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।

রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা অন্য কোথাও থেকে ব্যয় সংকোচন না করে নতুন করে করোনভাইরাস ব্যয় যুক্ত করতে অস্বীকার করার কারণে মহামারী সহায়তা বিলটি হুমকির মুখে পড়ে।

কৌশল পরিবর্তন

মাত্র গত মাসে, প্রশাসন বলেছিল যে, তারা বিশ্বব্যাপী মহামারী সহায়তার কৌশল সমন্বয় করবে, ভ্যাকসিন সরবরাহ হ্রাস করবে এবং টিকা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দেবে। তারা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর ডিসেম্বরে চালু হওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্লোবাল ভ্যাক্সকে অর্থায়ন করতে পারবে না।

মানবিক সংস্থাগুলো সর্বজনীন বিল থেকে কোভিড তহবিল অপসারণের সমালোচনা করেছে।

আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা অনুসারে, নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর মাত্র ১৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ অন্তত একটি ডোজ পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন সহায়তায় বিশ্বে সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশ্বব্যাপী মহামারী সহায়তা তহবিলের অভাবকে “স্বপ্রণোদিত পরাজয়” বলে অভিহিত করেছেন।

ডিউক গ্লোবাল হেলথ ইনোভেশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. কৃষ্ণ উদয়কুমার বলেন, “একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর বৈশ্বিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব হলো মহামারী প্রতিরোধে টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা হুমকির জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ার সর্বোত্তম পথ”।

উদয়কুমার ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, “আমরা বিশ্বজুড়ে আরও অবদান না রাখলে, আমেরিকানদের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করতে পারব না”।

ইতিপূর্বে মহামারী সহায়তার তহবিল কাটছাঁটের আগে আইন প্রণেতারা ইউক্রেনের জন্য ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সহায়তায় সম্মত হন, যার মধ্যে সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ করতে এবং ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার দেশটির অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তার জন্য ব্যয় করা হবে।

XS
SM
MD
LG