অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে চীনের চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উদ্বেগ


বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী মানসেহ সোগাভারে (বাঁয়ে) ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। ৯ অক্টোবর ২০১৯

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীরা সলোমন দ্বীপপুঞ্জে চীনা সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে সোমবার (২৮ মার্চ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গত সপ্তাহে ফাঁস হওয়া একটি নথি ইঙ্গিত করে যে, চীন যুদ্ধজাহাজসহ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশটিতে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, তিনি সপ্তাহান্তে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আডার্নের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন এবং সোমবারের পরে পাপুয়া নিউগিনি ও ফিজির নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করেছেন।

মরিসন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যে খবর দেখেছি তা আমাদের কাছে বিস্ময়কর নয় এবং এগুলো আমাদের অঞ্চলে নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্রমাগত চাপ ও হুমকির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে”।

আডার্ন সলোমনে দ্বীপপুঞ্জে চীনা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির সম্ভাবনাকে “গুরুতর বিষয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি রেডিও এনজেডকে বলেন, “আমরা এই ধরনের কার্যকলাপকে এই অঞ্চলের সম্ভাব্য সামরিকীকরণ হিসেবে দেখছি”। “আমরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের উপস্থিতির প্রয়োজন এবং কোনো কারণ দেখি না”, তিনি যোগ করেন।

আডার্ন সলোমন দ্বীপপুঞ্জের নেতাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করার সময় “আমরা যেন আমাদের নিজস্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিবারের বাইরে না যাই”।

যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, তারা বিশ্বাস করে না যে, চীনের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সামরিক পদ্ধতির অন্য কোথাও উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন এই উদ্বেগগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “চীন ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে সহযোগিতাকে সলোমন সরকার এবং জনগণ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে”।

সলোমন দ্বীপপুঞ্জ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে যে, তারা চীনের সঙ্গে একটি পুলিশিং সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু সলোমনের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য আরও আশঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থার খসড়া, যেটা অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়।

খসড়া চুক্তির শর্তাবলীর অধীনে, চীন পুলিশ, সামরিক কর্মী এবং অন্য সশস্ত্র বাহিনীকে “সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে” এবং অন্য বিভিন্ন কারণে সলোমনে পাঠাতে পারে। দেশটি বিরতি এবং সরবরাহ প্রতিস্থাপনে দ্বীপগুলোতে জাহাজ পাঠাতে পারে।

গত সপ্তাহে চুক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছে যে, বেইজিং ও সলোমন “সবার প্রতি সমান আচরণ এবং দুই দেশের জন্যেই লাভজনক সহযোগিতার ভিত্তিতে স্বাভাবিক আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে কাজ করেছে”।

নিরাপত্তা চুক্তি কবে নাগাদ চূড়ান্ত, স্বাক্ষর বা কার্যকর হবে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সলোমন দ্বীপে প্রায় ৭ লাখ লোকের বসবাস। দেশটি ২০১৯ সালে তাইওয়ান থেকে বেইজিংয়ের প্রতি তার কূটনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তন করে। যেটি নভেম্বরে দাঙ্গার একটি অনুঘটক ছিল।

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ ২০১৭ সালের একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তির অধীনে তখন থেকে রাজধানী হোনিয়ারাতে শান্তি বজায় রেখেছে। এই চুক্তিটি বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ, সেনা এবং সংশ্লিষ্ট বেসামরিক লোকদের মোতায়েনের আইনি ভিত্তি প্রদান করে।

সলোমন দ্বীপপুঞ্জের বিরোধী নেতা ম্যাথিউ ওয়েল বলেছেন, তিনি গত বছরের অগাস্টে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার লাচলান স্ট্রাহানকে সতর্ক করেছিলেন যে, সরকার বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। যে চুক্তির মাধ্যমে চীন সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করতে পারে।

উল্লেখ্য, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ অবকাঠামো অংশীদারত্বের বিকল্প অন্বেষণের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহায়তা সহযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে।

XS
SM
MD
LG