অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মেয়েদের শিক্ষা বঞ্চিত করছে, নারীদেরকে বিদেশে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে তালিবান


আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সরকারি পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছে আফগানরা। ১৭ অক্টোবর, ২০২১।

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে, মুসকা নামের ৩৫ বছর বয়সী একজন আফগান নারী, যিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তার নামের শেষাংশ প্রকাশে অনিচ্ছুক, একটি নতুন পাসপোর্টের জন্য কাবুলের তালিবান নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সরকারী অফিসে আক্ষরিক অর্থে কর্মকর্তাদের দয়া ভিক্ষা চাইছেন।

মুসকা টেলিফোনে ভিওএ-কে বলেছেন, “আমাকে তালিবান প্রহরীরা মারধর করেছে, মৌখিকভাবে অপমান করেছে, আমাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে আমার কোনও পাসপোর্ট নেই”।

গত আগস্টে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সাবেক ওই সরকারি কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তালিবান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব সরকারি চাকরিজীবী নারীদের বরখাস্ত করেছে।

তালিবান নেতৃত্বে মুসকা তার ভবিষ্যতের জন্য আতঙ্কিত। তাই তিনি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতক প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তিও পেয়ে যান।

কিন্তু মুসকা বলেন, “আমাকে আমার আই-২০ ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং সময় মতো ভিসার আবেদন জমা দিতে হবে, যাতে আমি শরত্কালের প্রোগ্রাম শুরু করতে পারি। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া আমি কিছুই করতে পারছি না”।

এছাড়া, অন্য দুই আফগান নারীও ভিওএ-কে বলেছেন, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের পাসপোর্টের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পাসপোর্ট নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য আফগান নারীদেরও প্রভাবিত করছে, বিশেষ করে যারা আফগানিস্তানের বাইরে থাকেন এবং কাজ করেন। কারণ, বিদেশে ভ্রমণ করার জন্য সবারই একটা বৈধ পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়।

একটি আফগান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ওয়েলেসলি কলেজের ফেলো পাশতানা দুররানি ভিওএ-কে বলেছেন, “আগামী বছর মে মাসে যখন আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবে, তখন আমি কী করব তা আমার জানা নেই”।

তালিবান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলাদের পাসপোর্ট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি, তবে পাসপোর্ট বিভাগের ওয়েবসাইটে একটি ঘোষণায় বলা হয়েছে যে "পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পাসপোর্টের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।"

পাসপোর্ট বিভাগের একজন মুখপাত্র ২৯শে মার্চ কাবুলে সংবাদদাতাদের বলেন, নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা "শীঘ্রই আবার শুরু হবে", কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলেননি নারীদের, বিশেষ করে যাদের পুরুষ সঙ্গী নেই, তাদের পাসপোর্ট দেওয়া হবে কিনা।

এমনকি যদি নারী ও মেয়েদের বৈধ পাসপোর্ট থাকেও, তালিবানের নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত কোনও পুরুষ সঙ্গী (বাবা, ভাই, স্বামী, ছেলে) না থাকলে, তারা দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারবে না।

অন্যদিকে, মার্চ মাসে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় শুরু করার বিষয়ে পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও, গত সপ্তাহে তালিবান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, মাধ্যমিক এবং উচ্চবিদ্যালয়গুলি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে।

নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, তালিবানকে তাদের দমনমূলক নীতির জন্য জবাবদিহি করতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি কিছু করা উচিত।

কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ রয়েছে, তাই সমস্ত আফগান পাসপোর্টধারীদেরকে আমেরিকান ভিসার আবেদন করার জন্য দেশের বাইরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এর ফলে আফগানিস্তানের বাইরে শিক্ষা অর্জন এবং কাজের সুযোগ পেতে মুসকার মতো নারীদের ক্ষমতায়নকে আরও জটিল করে তুলছে।

XS
SM
MD
LG