অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নদীতে ফুল উৎসর্গের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে “বৈসাবি” উৎসব শুরু


“বৈসাবি” উৎসব

পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ উপলক্ষে বাংলাদেশের পার্বত্য তিন জেলায় বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু তথা বৈসাবি উৎসব শুরু হয়েছে। পার্বত্যবাসীদের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব “বৈসাবি”কে স্বাগত জানিয়ে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

সকালে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, ডিজিএফআইয়ের খাগড়াছড়ি ডেট কমান্ডার কর্নেল ইশতিয়াক আহমেদ সর্দার, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশিরুল হক ভূইয়া, পৌর মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হাজারো পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ থেকে বের হয়ে শহর ঘুরে টাউন হলে প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। বিশেষ করে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর মানুষের বর্ণিল পোশাকে বৈচিত্র্য ও বর্ণাঢ্যতা ছিল দেখার মতো। টাউন হল প্রাঙ্গণে ত্রিপুরাদের গরাইয়া নৃত্য এবং চাকমা ও মারমাদের নৃত্যকলা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এর আগে ভোরে চেঙ্গী নদীতে দেবীর উদ্দেশে ফুল পূজার মধ্যদিয়ে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব শুরু হয়।

জেলা সদরের খবংপুজ্যা এলাকা দিয়ে চেঙ্গী নদীতে ফুল দিতে আসেন শতশত চাকমা শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। কেউ একাকি আবার অনেকে সারিবদ্ধ হয়ে নদীতে নানা রঙের ফুল উৎসর্গ করেছেন।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) ত্রিপুরারা “বৈসু” এবং পয়লা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) মারমারা “সাংগ্রাই” উৎসব পালন শুরু করবেন।

এদিকে বৈসাবিকে ঘিরে এরই মধ্যে পাহাড়ের পাড়া-পল্লিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঐহিত্যবাহী খেলাধুলায় মেতেছেন পাহাড়িরা। বিগত দুই বছর করোনার ধকল কাটিয়ে এবার বর্ণিলভাবে বৈসাবি পালন করছেন পাহাড়িরা।

XS
SM
MD
LG