অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান ব্রিটেন ও ভারতের


ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর ভারতের পথে যাত্রা , এপ্রিল ২০, ২০২২ (ফাইল ছবি)

ভারত এবং ব্রিটেন শুক্রবার রাশিয়ার প্রতি ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, নিজেদের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক প্রসারিত করার মাধ্যমে, রাশিয়ার উপর থেকে ভারতের নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়তা করতে কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংবাদকর্মীদের বলেন যে, তিনি এবং জনসন ইউক্রেনের পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সমস্যার সমাধানে কূটনীতি ও আলোচনার গুরুত্বের উপর জোর দেন তিনি।

মোদী বলেন, “উভয় পক্ষই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছে।” আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে এর মাধ্যমে তিনি অঞ্চলটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান দৃঢ়তার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণে জনসন মোদীকে চাপ দেননি বলে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানান।

জনসন সংবাদকর্মীদের বলেন যে, এই মাসের শুরুতে বুচায় হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারত কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এও বলেন যে, মোদী ইতোমধ্যেই একাধিকবার ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে জানতে চেয়েছেন যে, তিনি আসলে কি করছেন এবং তা কোন দিকে যাচ্ছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে হিন্দীতে কথা বলে জনসন মোদীকে তার “খাস দোস্ত” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, “আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক কখনই বর্তমানের মত এত দৃঢ় বা এত ভাল ছিল না।”

বৃহস্পতিবার ভারতে এসে পৌঁছানোর পরপরই জনসন বলেন যে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার গভীর সম্পর্কের বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মোদী ইউক্রেনের পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং দুই পক্ষের কাছেই শান্তির আবেদন করেন। যদিও ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে ভারত নিন্দা জানিয়েছে, তবুও এখনও পর্যন্ত তারা পুতিনের সমালোচনা করেনি। এছাড়াও, মানবাধিকার কাউন্সিলে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই মাসের ভোটটি থেকেও বিরত ছিল ভারত।

আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া থেকে তেল আমদানি হ্রাস করতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং অন্যান্যদের চাপকেও ঠান্ডাভাবেই সামাল দিয়েছেন মোদী।

ভারত সাধারণত রাশিয়া থেকে নিজেদের তেলের চাহিদার তুলনামূলক কম অংশই আমদানি করে। তবে মূল্য হ্রাসের কারণে দেশটি রাশিয়ার তেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে। রাশিয়ার অস্ত্রেরও এক বড় ক্রেতা ভারত। সম্প্রতি তারা রাশিয়া থেকে উন্নততর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করেছে।

XS
SM
MD
LG