অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্ররা


(ফাইল) একটি জার্মান গেপার্ড বিমান বিধ্বংসী ট্যাঙ্ক৷ জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টিন ল্যামব্রেখ বলেছেন, তারা ইউক্রেনে এই ট্যাঙ্কগুলি সরবরাহের অনুমোদন দেবে। ২৬ এপ্রিল, ২০২২।

যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা রাশিয়ার দুই মাসের আক্রমণ মোকাবেলায় ইউক্রেনের বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য আরও দ্রুত এবং আরও শক্তিশালীভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটিকে বলেন, ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম এবং যুদ্ধাস্ত্র স্থানান্তর করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথমে "কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতো", কিন্তু এখন প্রায় তিন দিনের মধ্যেই ইউক্রেনে নতুন অস্ত্র প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

ব্লিংকেন বলেন, তিনি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন সপ্তাহান্তে কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির সাথে দেখা করার পর, "তারা যা বলেছে এবং আমরা যা দিতে পেরেছি বলে আমরা মনে করি, তাতে অনেকাংশেই একমত হয়েছে" দুটি দেশ।

ব্লুমবার্গের মতে, জার্মানিও ৫০টি বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রব্যবস্থার চালান দিয়ে শুরু করে, মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে ভারী অস্ত্র পাঠানোর ইঙ্গিত দিল।

হোয়াইট হাউজ বলেছে জার্মানির এই সিদ্ধান্ত রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এক ঐক্যের বার্তা বহন করছে।

জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে ৪০টি নেটো দেশ এবং অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে অস্টিন বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন "কখনও কল্পনা করেননি যে, পুরো বিশ্ব এত দ্রুত এবং নিশ্চিতভাবে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াবে।"

অন্যদিকে, মস্কো ইউক্রেনে আরও অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ চালানোর জন্য পশ্চিমকে অভিযুক্ত করেছে এবং একটি "উল্লেখযোগ্য" ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে যে যুদ্ধটি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে।

তবে ইউক্রেনের যুদ্ধ রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে পারমাণবিক সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে বলে আভাস দেওয়ার জন্য অস্টিন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে তিরস্কার করেন।

ব্লিংকেন এবং অস্টিন যখন কিয়েভ সফরের সময়ে ইউক্রেনের জন্য আরও সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

মঙ্গলবার অস্টিন বলেছেন, "রাশিয়ার আক্রমণ এবং নৃশংসতা অমার্জনীয়। আসুন, আমরা সবাই আজকে নৈতিক স্বচ্ছতার অবস্থান থেকে শুরু করি। রাশিয়া একজন ব্যক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য পছন্দের যুদ্ধ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তার গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব এবং তার নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনের যুদ্ধে লড়ছে।"

রাশিয়া পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনে নতুন আক্রমণ শুরু করার পরও, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার মস্কোতে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের সাথে বৈঠক করে যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানান।

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও পুতিনকে ইউক্রেনের নেতা জেলেন্সকির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়ের সাথে তুরস্কের অভিন্ন সামুদ্রিক সীমানা রয়েছে এবং এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য তুরস্ক দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেও এর আগে ব্যর্থ হয়েছে।

XS
SM
MD
LG