অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

করোনায় আরোগ্য সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশ পঞ্চম, দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে


বাংলাদেশে করোনা মহামারী পরিস্থিতি

করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বিশ্বের যে দেশগুলো সবচেয়ে ভালো করছে, সেই তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিকেই এশিয়া প্রকাশিত “নিকেই কোভিড–১৯ রিকোভারি সূচক”–এ এই চিত্র উঠে এসেছে। সূচকে বিশ্বের ১২১টি দেশের মধ্যে ৮০ স্কোর নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে কাতার। এরপরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কম্বোডিয়া ও রুয়ান্ডা। তারপরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ষষ্ঠ, পাকিস্তান ২৩তম, শ্রীলঙ্কা ৩১তম এবং ভারত ৭০তম অবস্থানে রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিম্নগামী হয়েছে। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৭ জন। গত ১৬ দিন ধরে কোনো নতুন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত মার্চে কোভিড আরোগ্য সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশ ১৩তম স্থানে ছিল।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা, টিকা দেওয়ার হার এবং সামাজিক গতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসের শেষে এই সূচক প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের প্রায় ৫ গুণ—ডব্লিউএইচও

তবে নিকেই এশিয়া অনুসারে করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান, বাংলাদেশে করোনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার; যা সরকারি গণনার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনাভাইরাস মহামারিতে বাংলাদেশে ২৯ হাজারের কম মানুষ মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচওর অনুমান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি এবং ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর এর মধ্যে করোনা মহামারির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ(পরিসীমা ১ কোটি ৩৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ)। যা বর্তমান সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গত বছরের শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মাত্র ৫৪ লাখ মৃত্যুর কথা জানা যায়।

এই সংখ্যার মধ্যে সরাসরি করোনভাইরাসজনিত কারণে বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মহামারির প্রভাবের জন্য দায়ী কারণগুলোর প্রভাবজনিত মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন-হাসপাতালগুলো করোনা রোগীতে পূর্ণ থাকায় চিকিৎসা নিতে না পারায় অনেক ক্যানসারের রোগী চিকিৎসা নিতে পারেননি।

তবে, লকডাউন ও বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে মোটরযান দুর্ঘটনা বা পেশাগত আঘাতের মতো নির্দিষ্ট কিছু দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম থাকার কারণে, মহামারি চলাকালে মৃত্যুর আনুমানিক সংখ্যা প্রভাবিত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ মৃত্যু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় ঘটেছে।

প্রভাবশালী ইনস্টিটিউট অফ হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএমএইচই) একটি দলের পরিচালিত সমীক্ষা বলছে, করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার, যা সরকারি পরিসংখ্যান থেকে ১৫ গুণ বেশি। সে সময়, বাংলাদেশের একজন সরকারি কর্মকর্তা এটিকে “অনুমানমূলক” বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ডব্লিউএইচও বলেছে, বাংলাদেশে, বিশেষ করে ২০২০ সালের জুন-জুলাই-অগাস্ট সময়ের মধ্যে, অতিরিক্ত মৃত্যুর হার প্রথমবার বৃদ্ধি পেয়েছে। ডব্লিউএইচও অনুমান করেছে, সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত মৃত্যুর চেয়ে, অতিরিক্ত ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।

মহামারির প্রথম বছর শেষে বাংলাদেশে ৪৬ হাজার ৪১ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছিল। দ্বিতীয় বছর, এপ্রিল ১৪ হাজার ২৭৬ জনের, জুনে ১৩ হাজার ১৩ জনের, জুলাইয়ে ২০ হাজার ৩০ জনের এবং অগাস্টে ১৮ হাজার ৯১৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়।

ডব্লিউএইচওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ৪০ হাজার ৭৬৪ জনে পৌঁছেছে।

XS
SM
MD
LG