অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

১৮ বছর পর কুড়িগ্রামে হত্যা মামলার রায়, ৮জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে, হত্যা মামলায় আট জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছর পর সোমবার (৯ মে) দুপুরে, মামলার রায় দেন, জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল এলাকার ঘেতু শেখের ছেলে রাশেদ (৪০), মকবুল হোসেন (৫৪) ও তসলিম উদ্দিন (৫৬), দারাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদের (৪৩), মতিয়ার রহমানের ছেলে মিন্টু (৪১), মনির উদ্দিনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন (৪৪), সেকেন্দার আলীর ছেলে মোনাল মিয়া ওরফে মোন্নাফ (৪৪) এবং ওসমান মিয়ার ছেলে নুরু মিয়া (৫০)। রায় শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিবাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট সামসুদ্দোহা রুবেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন।

মামলার বিবরণ মতে, ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার কাচকোল বাজারে শিক্ষক মোখলেসুর রহমানের ছেলে মুদি ব্যবসায়ী নুরনবীকে (২২) তার দোকানে আসামিরা গলায় মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা করে। এর আগে , শ্যালো মেশিনে পানি দেয়াকে কেন্দ্র করে, দণ্ডপ্রাপ্তদের সঙ্গে নিহত নুরনবীর বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দিলেও, তাতে সন্তষ্ট ছিল না দণ্ডপ্রাপ্তরা। এরপর, রাশেদ, নুরনবীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে এবং তারই দোকানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

পরে, নূরনবীর বাবা মোখলেসুর রহমান ৯ জনকে আসামি করে ২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৪৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে, জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান আটজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের পর, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন বলেন,“এতে সত্য উন্মোচিত হয়েছে। আদালত যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তাতে এমন অন্যায় কাজ করতে মানুষ দ্বিতীয়বার ভাববে।”

XS
SM
MD
LG