অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ওয়াশিংটনে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী


জার্মানির বার্লিনে নেটো পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে মিলিত হন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু। ১৫ মে, ২০২২।

ইস্তাম্বুল — তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন-এর সাথে দেখা করতে ওয়াশিংটনে আসছেন - এটি নিঃসন্দেহে দুই নেটো মিত্র দেশের মধ্যে সম্পর্ক সংশোধনের সর্বসাম্প্রতিক পদক্ষেপ। তবে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের আটলান্টিক জোটে যোগদানের বিরুদ্ধে তুরস্কের ভেটো দেবার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে তুর্কি কূটনীতিকের উত্তর দেওয়ার জন্য বেশ কঠিন কিছু প্রশ্নও অপেক্ষা করছে।

ওয়াশিংটনের একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল আঙ্কারা। তবে, তুরস্কের দুর্বল মানবাধিকার রেকর্ড এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাথে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন চলছে।

রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনের প্রতি তুরস্কের শক্তিশালী সমর্থন যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের একটি সুযোগ দিয়েছে। বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, কাভুসোগলুর ওয়াশিংটন সফর সেই প্রক্রিয়াটিকে সাহায্য করবে।

তবে ইউরোপীয় কাউন্সিলের একজন সিনিয়র ফেলো আসলি আইদিনতাসবাস সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের নেটো সদস্যপদে ভেটো দেওয়ার জন্য এরদোয়ানের হুমকি, চাভুসোগলুর এই সফরের উপর কালো ছায়া ফেলেছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এরদোয়ানের কঠোর অবস্থান, পুতিনের সাথে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেবে। উপরন্তু, তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার কারণে, ওয়াশিংটনকে আঙ্কারার উপর সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেও প্ররোচিত করবে।

ইস্তাম্বুলের কাদির হাস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সোলি ওজেল বলেছেন, কাভুসোগলুর উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি হল - তুরস্কের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমতি দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে রাজি করানো – তবে এরদোয়ানের চূড়ান্ত আনুগত্য ঠিক কোথায়, তা নিয়ে নতুন করে উত্থাপিত প্রশ্নগুলি আরও জটিল হয়ে দেখা দিতে পারে।

মঙ্গলবার রাশিয়ার মিডিয়া ঘোষণা করেছে, পুতিন আগামী দিনে তুরস্ক সফর করার পরিকল্পনা করছেন। তবে ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে আঙ্কারা নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। এটা ঠিক, পুতিনের তুরস্ক সফর ওয়াশিংটনসহ তুরস্কের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াবে। পেনসিলভেনিয়া ভিত্তিক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অ্যারন স্টেইন বলেছেন, তুরস্কের প্রতি ওয়াশিংটনের অনুভূতি সম্ভবত আরও বেশি সাবধানী হতে পারে।

বিশ্লেষকরাও আশা করছেন, চাভুসোগলু দেশের দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের গুরুত্বের ওপর জোর দেবেন। এই ধরনের অনুরোধগুলি কীভাবে পূরণ করা হয়, তা নির্ভর করতে পারে ওয়াশিংটনের পদ্ধতির উপর, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডে এরদোয়ানের ভেটো হুমকির মোকাবিলা করবেন কিংবা মেনে নেবেন কিনা তার উপর।

XS
SM
MD
LG