অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজনকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা

২০০০ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে শনিবার (১৮ জুন) রাতে,বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার শেখ মো. এনামুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বাসিন্দা। তিনি কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব সদরদপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, “একটি অভিযানের সময় শেখ মো. এনামুল হককে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই এনামুল হক পলাতক ছিলেন।”

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে ২২ জুলাই এক সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। এছাড়া, ২০০০ সালের ২৩ জুলাই কোটালীপাড়া হেলিপ্যাডের কাছে সেনাবাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ স্কোয়াড ৪০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা করা হয়। ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যারচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে শেখ মো. এনামুল হক একজন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও র‍্যাব

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান আইজিপি বেনজীর আহমেদও রয়েছেন। এ ছাড়া র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব ৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত। এতে বলা হয়েছে যে, তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে, র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

This item is part of
XS
SM
MD
LG