অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিডনির শহরতলীতে ভারীবর্ষণ ও বন্যার কারণে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে


সিডনি শহরের ক্যামডেন শহরতলীতে প্রবল বর্ষণের কারণে পানিতে নিমজ্জ্বিত একটি পার্কের দিকে তাকিয়ে আছেন দুই ব্যক্তি, ৩ জুলাই ২০২২।

ভারী বর্ষণের কারণে বন্যার পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং নদীগুলো উপচে পড়ায়, রবিবার সিডনির শহরতলীগুলোর হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিজ বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ জরুরি অবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আবহাওয়া ব্যুরো চরম আবহাওয়া বিষয়ক এক সতর্কতা জারি করেছে। তাতে বলা হয় যে, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল এই শহরের উপকূলজুড়ে এবং নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের কিছু কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকষ্মিক বন্যা হতে পারে এবং বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার (৫৫ মাইল) পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

কর্তৃপক্ষ জানায় যে, সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের ওয়ারাগাম্বা বাঁধের পানি রাতের বেলা উপচে পড়তে আরম্ভ করেছে এবং সর্বাধিক পানি উপচে পড়ার অবস্থায় তা গত বছরের মার্চ মাসের ভয়াবহ বন্যার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

একাধিক শহরতলীর বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, জরুরি পরিসেবা বিষয়ক মন্ত্রী স্টেফ কুক বলেন যে, মানুষজনের চলে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই।

জরুরি পরিসেবাগুলো জানিয়েছে যে, তারা বন্যার্ত এলাকায় ১০০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘন্টায় ৩,০০০ এরও বেশি সহায়তার অনুরোধে সাড়া জানানো হয়েছে। সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকটি স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ১০০ সদস্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তা করছে। তারা বালুর বস্তা বসাচ্ছে এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে বন্যার বিষয়ে সতর্ক করছে।

আবহাওয়া ব্যুরোর দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবেলা বিষয়ক ব্যবস্থাপক জেন গোল্ডিং বলেন যে, শুক্রবার থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত লঘুচাপটি আরও গুরুতর হয়েছে। একই সময়ে মধ্য-উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে একটি পূর্ব উপকূলীয় লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষজনকে সকল ধরণের অপ্রয়োজনীয় যাত্রা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে গণপরিবহনও অন্তর্ভুক্ত। কিছু কিছু রাস্তা ইতোমধ্যেই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে এবং অপর কিছু রাস্তায় আকষ্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

XS
SM
MD
LG