অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আক্রমণকে বাধাগ্রস্ত করতে রাশিয়ার তেলের মূল্যবৃদ্ধি রোধে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা


রাশিয়ার আলমেতিয়েভস্কির কাছে, শ্রমিকরা ট্রান্সনেফ্ট ক্যান অঞ্চলের একটি স্টোরেজ ট্যাঙ্কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, ২৬ এপ্রিল, ২০১২। (ফাইল ছবি)

ইতোমধ্যেই রাশিয়ার অর্থনীতিকে পর্যুদস্ত করার জন্য তার উপর হাজার হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এবার যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা রাশিয়ার যুদ্ধ যন্ত্র তেলকে দমিয়ে রাখতে নতুন কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে এবং তেল ও পেট্রোলের দামকে এমন স্তরে বাড়তে বাধা দিচ্ছে, যাতে বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙ্গে না পড়ে।

ক্রেমলিনের রাজস্বের প্রধান স্তম্ভ – তেল। রপ্তানিসহ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ জব্দ হওয়া সত্ত্বেও, তেল রাশিয়ার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পারছে। আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্ররা বাইডেন প্রশাসনকে অনুসরণ করে এই বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়ার তেলের ব্যবহার বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমন পদক্ষেপের ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ হ্রাস পেতে পারে এবং দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

ওয়াশিংটন এবং তার মিত্ররা ক্রেতাদের সম্মিলিত একটি সমিতি গঠন করতে বলছে, যাতে রাশিয়াকে তেলের বাজারের নিম্নমূল্য মেনে নিতে বাধ্য করা যায়। সাত নেতাদের গ্রুপ জি- সেভেন অস্থায়ীভাবে রাশিয়ার তেলের দামের উপর একটি নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দিতে রাজী হয়েছে। সোজা কথায় বলতে গেলে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলি বাজার দরের চেয়ে কম দামে তেল কিনতে সম্মত হবে।

কিন্তু রাশিয়া তা মেনে নিবে কিনা, তার কোন ইঙ্গিত দেয়নি। ক্রেমলিনের কাছে অবশ্য তার সমস্ত তেল বাজার থেকে সরিয়ে নিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার বিকল্প রাস্তাও রয়েছে, কিন্তু সেটা করলে আরও অশান্তি সৃষ্টি হবে।

জ্বালানীর উচ্চ মূল্য অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে, সেই সাথে গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধিতাকারী দেশগুলির মধ্যে ফাটল সৃষ্টির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে৷ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজ দেশে তাঁর জনসমর্থনকে এমন স্তরে নেমে যেতে দেখছেন, যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ইতালির নেতারা রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম পরিহারের চেষ্টা করার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে মোকাবিলা করছেন।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করার পিছনের ধারণাটি হল গ্রাহকদের জন্য তেলের দাম কমানো এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বর্তমানে প্রস্তাবটির পক্ষে তদ্বির করতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলি সফর করছেন। মঙ্গলবার তিনি জাপানে পৌঁছে, জাপানের অর্থমন্ত্রী সুজুকি শুনিচির সাথে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, দেশগুলি "যথাযথ মূল্য নির্ধারণের সম্ভাব্যতা" অন্বেষণ করতে সম্মত হয়েছে৷

তবে, চীন এবং ভারত, যারা এই যুদ্ধের সময় রাশিয়ার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে তাদেরও এই পথে আসতে হবে। প্রশাসন নিশ্চিত যে, চীন এবং ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে ছাড়ের দামে তেল ক্রয় করে, মূল্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রলুব্ধ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অর্থমন্ত্রী ওয়ালি আদেয়েমো বার্তা সংস্থা এপি-কে বলেছেন, "আমরা মনে করি, শেষ পর্যন্ত বিশ্বের যে দেশগুলি বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ক্রয় করছে, তারা রাশিয়ার তেলের জন্য যতটা সম্ভব কম অর্থ দিতে আগ্রহী হবে।"

যদি শেষ পর্যন্ত মূল্যসীমা কার্যকর করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে প্রায় সমস্ত তেল নিষিদ্ধ করার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের কারণে, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম প্রায় নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যাবে। ইইউ বছরের শেষ নাগাদ তৃতীয় কোনো দেশের কাছে রাশিয়ার তেলের সামুদ্রিক পরিবহন বীমা এবং অর্থায়ন নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে।

XS
SM
MD
LG