অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউরোপের সতর্কতা: মনোযোগ যখন ইউক্রেনে নিবদ্ধ, রাশিয়া তখন আফ্রিকার দিকে

সেনেগালের ডাকার-এ রাস্তায় এক আগুনে একটি ময়লার ভাগাড় ঠেলে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা, ১৭ জুন ২০২২। (আন্নিকা হ্যামারশ্ল্যাগ/ভিওএ)
সেনেগালের ডাকার-এ রাস্তায় এক আগুনে একটি ময়লার ভাগাড় ঠেলে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা, ১৭ জুন ২০২২। (আন্নিকা হ্যামারশ্ল্যাগ/ভিওএ)

ইউরোপজুড়ে একটি বিষয়ে অস্বস্তি বেড়ে চলেছে। তা হল যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণটি অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ একটি বিষয়কে আড়াল করে ফেলছে। যেই বিষয়টি ক্রেমলিনের স্বার্থ রক্ষা করে পশ্চিমা দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ইউরোপ ও নেটোর একাধিক কর্মকর্তার মতে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের যত অভ্যন্তরেই শক্তিপ্রয়োগ করুন না কেন, তবুও আফ্রিকাজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদের উত্থানের বিষয়টি এড়ানো যাবে না এবং সাহিল অঞ্চলের চেয়ে আর অন্য কোথাও এই উদ্বেগ এত দ্রুতগতিতে বাড়ছে না। সেনেগাল থেকে সুদান পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার অর্ধ-ঊষর জায়গাটি সাহিল নামে পরিচিত।

নেদারল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাজসা অলোংগ্রেন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে উপস্থিত দর্শকশ্রোতাদের বলেন, “ওয়্যাগনার আধাসামরিক বাহিনীর হাজার দুয়েক সৈন্য পাঠিয়ে রুশরা সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে। আমরা এটা মেনে নিতে পারি না।”

তবে, পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনে রুশ হুমকিটি আফ্রিকার হুমকিকে আড়াল করার বিষয়ে উৎকন্ঠা প্রকাশে অলোংগ্রেন একা নন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মিলিটারি স্টাফের সহকারি মহাপরিচালক, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিওভানি ম্যানিওন গত মাসে ওয়াশিংটনের এক ফোরামকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “আমার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর উপর এটির সবচেয়ে খারাপ যে প্রভাবটি পড়বে তা হল যে, এটি ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলির মনোযোগ পূর্বের যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে রেখেছে, যা কিনা দক্ষিণে ইতোমধ্যকার ক্ষীণ মনোযোগকে ক্ষীণতর করে ফেলছে।”

ম্যানিওন আরও গভীরে গিয়ে এমনও ধারণা দেন যে, পুতিন যতই ইউক্রেন দখল করতে চান না কেন, তিনি একই সাথে নিপুণভাবে সেই লড়াইকে একটি মনোযোগ সরানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করছেন।


XS
SM
MD
LG