অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

‘ঋণ ফাঁদ’ বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে চীন আফ্রিকার ২৩টি ঋণ বাতিল করেছে


বেইজিং-এ চীন-আফ্রিকা বিষয়ক সহযোগিতা ফোরাম ২০১৮-এর আগে একটি ডিসপ্লের কাছে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে আছেন। ৩০ আগস্ট, ২০১৮। ফাইল ছবি।

কিছু বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ১৭টি আফ্রিকান দেশের ২৩টি ঋণ মাফ করে দেয়ার চীনের যে ঘোষণা তা “ঋণ-ফাদ কূটনীতির” অভিযোগ দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।

সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংকে ঋণ-ফাদ কুটনীতি অনুশীলন করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে আসছেন। তারা বলছেন, চীন ইচ্ছাকৃতভাবে সেই দেশগুলোকে ঋণ দেয় যে দেশগুলো, তারা জানে যে, অর্থ পরিশোধ করতে পারে না।এর ফলে চীনের রাজনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি পায়। এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে চীন বলে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের অনুসন্ধানে থাকা ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেইজিংকে অসম্মান করার একটি উপায়।

নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ স্কলার হ্যারি ভারহোভেন বলেছেন, বিনা সুদে ঋণ মাফ করার চীনের সিদ্ধান্ত আংশিকভাবে ঋণ-ফাদ বিষয়ক ভাষ্য মোকাবিলা করার লক্ষ্য।

আফ্রিকান রাজনীতিবিদরা নিজেরাই ঋণ-ফাদ তত্ত্বের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন; যেমন চীনে ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রদূত তেশোম টোগা চানাকা এই ধারনাটিকে খণ্ডন করে বলেছেন, “একটি অংশীদারিত্ব যা উভয়ের উপকার করে না তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।”

কেনিয়ার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং অ্যাঙ্গোলার বিরোধী দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী অ্যাডালবার্তো কস্তা জুনিয়রসহ অন্যান্যরা চীনা ঋণ নেয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কিছু সমালোচক এই বছরের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কায় সংকটের জন্য চীনকে দায়ী করেছিলেন। সে সময় খেলাপি ঋণের কারণে নগদ অর্থের অভাবে থাকা শ্রীলঙ্কার সরকার গণবিক্ষোভের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল। কলম্বোর সর্ববৃহৎ দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাও বেইজিং; যদিও শ্রীলঙ্কার সর্ববৃহৎ বৈদেশিক ঋণের উৎস হলো বিভিন্ন দেশে বিক্রিত উন্মুক্ত বন্ড।

ভারহোভেন বলেছেন, উন্মুক্ত বন্ডের বৃদ্ধি আফ্রিকান দেশগুলোর ঋণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ; তিনি চীনের ঋণ-ফাদ বিষয়ক ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।

XS
SM
MD
LG