অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানের বন্যা-দূর্গতদের জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর সহায়তার পদক্ষেপ


পাকিস্তানের সুক্কুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কর্তৃক স্থাপিত একটি অস্থায়ী তাঁবু শিবিরে চা বানানোর সময় প্রবল বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা আশ্রয় নিচ্ছেন। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি(ডব্লিউএফপি) বলেছে, পাকিস্তানে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত দেশটির ১৯ লাখ মানুষের জন্য তারা তাদের জরুরি সহায়তা বৃদ্ধি করেছে।

ডব্লিউএফপির মুখপাত্র টমসন ফিরি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং সিন্ধু প্রদেশে ইতোমধ্যেই ৪ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডব্লিউএফপি সারাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, “আমরা ৪ লাখ মানুষকে সহায়তা প্রদান করেছি, তবে হ্যাঁ, এ বন্যায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

জাতিসংঘ বলেছে, প্রবল বর্ষণে দেশের এক তৃতীয়াংশ অঞ্চল ভেসে গেছে, শত শত শিশুসহ প্রায় ১৪০০ মানুষ মারা গেছে। তারা বলেছে, ৫ লাখেরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, শত শত সেতু এবং রাস্তা ভেঙে গেছে বা ভেসে গেছে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলোর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফিরি বলেন, ৬ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ জনাকীর্ণ ত্রাণ শিবিরে রয়েছে। সেখানে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

ফিরি বলেন, ডব্লিউএফপি তাদের জরুরি কার্যক্রমের পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা প্রয়োজন।

ফিরি বলেন, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে যাতে সম্প্রদায়গুলোর জলবায়ু বিপর্যয় সংক্রান্ত ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করা যায়। তিনি বলেন, কিছু প্রকল্পের মধ্যে খরা ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় সেচের চ্যানেল ও বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পুরুষ ও নারী উভয়কেই তাদের জীবিকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করার জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম শেখানো হবে।

XS
SM
MD
LG