বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, “আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। গুজবসহ কোন প্রকার অপপ্রচার চালালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে, অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মূল সেনানী হচ্ছেন শিক্ষকরা। আমরা পথচলার শুরুর দিকেই আছি। আমরা সবাই মিলে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারবো। সরকার নতুন এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে প্রায় চার লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা এত দিন যে আঙ্গিকে শিখন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তাদের শিখন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষায় এই যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, এতে আমাদের শিক্ষকদের প্রস্তুত করার জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছি। বাংলাদেশের সকল শিক্ষককে একই সময়ে একই ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।”
দীপু মনি বলেন, “শিক্ষাক্রমে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তাতে আমাদের প্রস্তুতিটাও ব্যাপক। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় যে বাধা আসবে, তা হলো; আমাদের মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, অভ্যাস। শিক্ষার্থী কত নম্বর পেল, বছর শেষে শ্রেণিতে কোনো জায়গায় শিক্ষার্থীর অবস্থান সেটা নিয়ে আমরা যে পরিমাণ উদ্বিগ্ন এবং তার ওপর আমরা যে পরিমাণ জোর দেই, তার থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থী কতটা শিখছে, কতটা ভালো মানুষ হচ্ছে, কতটা তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হচ্ছে, কতটা মানবিক মানুষ হচ্ছে, তার সৃজনশীলতা কতটুকু বিকাশ হচ্ছে সেটা দেখবার মতো দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে কিনা সেটা খুব জরুরি।”
তিনি বলেন, “এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে যদি সেই জায়গাটিতে আমরা পরিবর্তন আনতে না পারি, তাহলে আমাদের আকাঙ্খা সফল হবে না। সেই জন্য আমরা চাইছি, আমাদের মনোভাব পরিবর্তনের কাজটি জোর দিয়ে করতে।”
দীপু মনি বলেন, “১ জানুয়ারি ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণির যে বই হাতে পাবেন, সেটিকে চূড়ান্ত রূপ ভাববেন না। এর ওপর আরও কাজ করার আছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণে আরও পরিবর্তন নিয়ে আসবো। এটি অনেক বড় কাজ। শিক্ষায় আমরা পরিবর্তনের কথা বলছি না। আমরা সংস্কারের কথা বলছি না। আমরা শিক্ষায় রূপান্তরের কথা বলছি। আমরা দুই/তিন বছরের চেষ্টায় একেবারে নিখুঁত একটা পরিকল্পনা করে ফেলব, সেটা বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। তবে আমরা সবাই মিলে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারব, এটা আমার বিশ্বাস।”