অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের দুইটি প্রকল্প


বাংলাদেশের দুটি প্রকল্প বিশ্বব্যাপী স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার (একেএএ)-২০২২’ জিতেছে। এ বছর বিজয়ী হিসেবে ছয়টি প্রকল্পের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

খন্দকার হাসিবুল কবির ও সুহেলি ফারজানার ঝিনাইদহের ‘আর্বান রিভার স্পেসেস প্রকল্প’ এবং রিজভী হাসান,খাজা ফাতমি ও সাদ বেন মোস্তফার ‘রোহিঙ্গা রিফিউজি রেসপন্স প্রোগ্রাম’-এর কমিউনিটি স্পেসের নকশা এই পুরস্কার জিতেছে।

উল্লিখিত প্রকল্পগুলো ছাড়া, এবছর ইন্দোনেশিয়া,ইরান, লেবানন ও সেনেগালের চারটি প্রকল্প এই পুরস্কার জয় করেছে। পুরস্কারজয়ী ছয়টি প্রকল্প একেএএ পুরস্কারের ১০ লাখ ডলার ভাগ করে নেবে।

ঝিনাইদহের আরবান রিভার স্পেসেস

নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ ঝিনাইদহের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণে নবগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিষ্কার করে নদীতে অভিগম্যতা বাড়ানোর এই প্রকল্পটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ ছিল। এর মাধ্যমেই স্থানীয় নির্মাণ কৌশল ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে সুবিবেচনাপূর্ণ ও সাদামাটা প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়। নদী তীরবর্তী পরিত্যাক্ত ময়লার ভাগাড়কে একটি আকর্ষণীয় বহুমুখী স্থানে পরিণত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যতম নদীবহুল দেশ, বাংলাদেশের একটি নদী ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য বিপর্যয় যেমন রোধ করা গেছে। এর প্রভাবে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রেরও উন্নতি হয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কমিউনিটি স্পেস

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিভিন্ন জরুরি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে, কাজ করে যাচ্ছে রোহিঙ্গা রিফিউজি রেসপন্স প্রোগ্রামের ছয়টি অস্থায়ী কমিউনিটি স্পেস।

বাংলাদেশের কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠির মাঝে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনে, বিশেষ করে নারী ও মেয়ে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিশ্চিত করা হচ্ছে এই কমিউনিটি স্পেসগুলোতে। যথাযথ কর্মপরিকল্পনা,জোরালো অংশীদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পেসগুলোর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নকশা, শরণার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং স্থানের চাহিদার নিরিখে করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রকল্প আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছে। ২০১৯ সালে ‘দক্ষিণ কানারচরের আর্কেডিয়া এডুকেশান প্রকল্প’ (স্থপতি সাইফ উল হকের নকশা) এই পুরস্কার জিতেছে এবং একই বছর স্থপতি জুবায়ের হাসান এর করা গাজীপুরে ‘আম্বার লুম ডেনিম শেড’-এর নকশাটি সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিল।

২০১৬ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে ছিল স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের নকশা করা ঢাকার ‘বাইত উর রউফ মসজিদ’ ও কাশেফ চৌধুরীর করা গাইবান্ধার ‘ফ্রেণ্ডশিপ সেন্টার’। ১৯৮৯ সালে এই পুরস্কার জিতেছিল ‘গ্রামীণ ব্যাংক হাউজিং প্রোগ্রাম’ ও ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং’ এবং ২০০৭ সালে রুদ্রপুরের একটি স্কুল এই পুরস্কার পায়। এ ছাড়া, ২০১০ সালে আগা খান পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশের আরও ২টি প্রকল্প।

১৯৭৭ সালে মহামান্য আগা খান এই স্থাপত্য পুরস্কার প্রবর্তন করেন।

XS
SM
MD
LG