অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানে ভাল নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থা নিয়ে তালিবানের দাবি প্রশ্নসাপেক্ষ : জাতিসংঘ


আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরীফ প্রদেশে, একটি মসজিদের অভ্যন্তরে বোমা বিস্ফোরণের স্থানের বাইরে পাহারা দিচ্ছেন একজন তালিবান যোদ্ধা। খোরাসান প্রদেশের ইসলামিক স্টেট এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২১ এপ্রিল, ২০২২। (ফাইল ছবি)

জাতিসংঘ মঙ্গলবার সতর্ক করেছে যে, প্রকারান্তরে তালিবান কর্তৃপক্ষ তাদের আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও সুশাসনের দাবিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ ইসলামিক স্টেটের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান হামলা চালাচ্ছে।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের উপপ্রধান পটজেল মার্কাস মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, "তালিবানের দাবিকৃত এবং স্বীকৃত কিছু অর্জন বিনষ্ট হচ্ছে।"

তিনি বলেন, "গত মাসগুলিতে, সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং অপরাধ উভয়ের পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার, মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলা, ইউএনএএমএ দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা নিরাপত্তা লঙ্ঘন করার মতো ঘটনাগুলি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।"

বিদেশী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিজয় দাবি করে, তালিবান সরকার বলছে, তারা একটি বিশুদ্ধ ইসলামী আমিরাত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে।

জাতিসংঘ এখন দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রকৃতপক্ষে অবনতি ঘটছে বলে সতর্ক করে তালিবানের এই ধরনের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কোনো তালিবান প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, তবে সাবেক আফগান সরকারের একজন কূটনীতিক এবং একজন তালিবান বিরোধী কর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘ বিশ্ব সংস্থায় তাদের কূটনীতিকদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তালিবানের আহ্বান বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাও গোষ্ঠীটির অগণতান্ত্রিক এবং প্রায়ই দমনমূলক শাসন শৈলীর জন্য তালিবানের নিন্দা করেছেন।

জাতিসংঘে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধি ফার্গাল মিথেন বলেছেন, “প্রতিদিন, আমরা আফগানিস্তান থেকে তালিবান দমন, রাতের অভিযান, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের রিপোর্ট শুনি। এছাড়া সেখানে মানবাধিকার রক্ষক, সাংবাদিক এবং মিডিয়া কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে”।

ক্ষমতা দখলের পর থেকে, তালিবান আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট এবং নির্বাচনী সংস্থা ভেঙ্গে দিয়েছে, এবং তারা ইসলামিক আলেমদের সমন্বয়ে শুধুমাত্র পুরুষদের মন্ত্রিসভায় নিযুক্ত করেছে।

মার্কাস বলেন, “অধিকাংশ আফগান নিজেদেরকে শাসনের সব স্তরে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখেন না। নাগরিকদের কর্তৃপক্ষকে মতামত দেওয়ার জন্য কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা নেই এবং তালিবান সেই ধরণের মতামত যে শুনতে চায়, এমন সামান্য ইঙ্গিতও নেই”।

জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তালিবান আফগানিস্তানকে আরও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা, দারিদ্র্য এবং অভ্যন্তরীণ কলহের দিকে ঠেলে দেবে, যদি না গোষ্ঠীটি তাদের শাসনব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনে ।

জাতিসংঘে নরওয়ের প্রতিনিধি মোনা জুল বলেছেন, "দেশটির অর্ধেক জনসংখ্যার [নারী] বিরোধিতাকারী নেতারা কিছুতেই বৈধতা পাবেন না, এমনকি আফগান জনগণের কাছ থেকে নয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকেও নয়।"

তালিবান নেতারা তাদের শাসন ব্যবস্থার প্রতি সাফাই গেয়ে দাবি করেছেন, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য অধিকার গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল এবং পক্ষপাতদুষ্ট বিবৃতি উপস্থাপন করে।

XS
SM
MD
LG