অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকা মহানগরে বাড়ছে যানজট, অতিষ্ঠ নগরবাসী, সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে দুই সিটি করপোরেশন


ঢাকা মহানগরে যানজট

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যানজট দিন দিন বাড়ছে।এর যেন কোনো প্রতিকার নেই। নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে এই যানজটের ভোগান্তিতে। ঘর থেকে বের হয়ে, সড়কে কতক্ষণ থাকতে হবে, গন্তব্যে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা কারোর জানা নেই। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরের কয়েকটি স্থানের যানজট তীব্রতর। তবে, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এ সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা আছে।

বনানী থেকে বিমানবন্দর-উত্তরা সড়কের দুই পাশেই হঠাৎ যানজট সৃষ্টি হয়। যার ফলে এই সড়কে আটকা পড়ে বিমান যাত্রীদের ফ্লাইট মিস করতে হয়। অনেক সময়, বিমানবন্দর এলাকারে যানজটেই বসে থাকতে হয় দেড় থেকে দুই ঘন্টা। যানজট সৃষ্টি হলে, উত্তরা থেকে পল্টন বা মতিঝিল আসতে সময় লাগে দুই থেকে তিন ঘন্টা।

উত্তরা থেকে সচিবালয় প্রতিদিন অফিস করেন রায়হান। তিনি জানান, “উত্তরা থেকে সচিবালয় পর্যন্ত আসতে সময় লাগে অন্তত দুই ঘন্টা। সৌভাগ্যক্রমে কখনও রাস্তা ফাঁকা থাকলে, দেড় ঘন্টায় আসা যায়। হঠাৎ কোনো স্থানে যদি যানজট তীব্র হয়, তখন দুই/তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগে চিবালয় পৌঁছাতে। বেশি যানজট হয় বিমানবন্দর, বনানী ও তেজগাঁও এলাকায়।

তেজগাঁও-ফার্মগেট-ধানমন্ডি-শাহবাগ এলাকায়ও প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। এসব এলাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। গুলশান-বনানী-বাড্ডা-কুড়িল এলাকায়ও অভিন্ন চিত্র।

গুলিস্থান-নবাবপুর-জিপিও-পল্টন-মতিঝিল এলাকায় রাস্তা ফাঁকা পাওয়া কঠিন। এই এলাকায় যানজট প্রতিদিনের সঙ্গী।বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পল্টন অফিস করেন ফেরদৌস। তিনি বলেন, “দেড়-দুই ঘন্টা সময় লাগে, যদি সকাল সকাল বের হতে পারি। যদি ১০টার পর বের হই, তাহলে সময় লাগে দুই ঘন্টা। কখনো অস্বাভাবিক যানজট সৃষ্টি হলে আড়াই-তিনঘন্টা সময় লেগে যায় পল্টন পৌঁছাতে। এই সড়কে বেশি যানজট হয় বাড্ডা, মৌচাক ও পল্টন মোড়ে।

মিরপুরে বসবাসকারী মুন্না বলেন, “মিরপুর থেকে মতিঝিল আসতে সময় লাগে দুই ঘন্টা। আর যদি যানজট তীব্র হয়, তবে আসতে সময় লাগে আড়াই ঘন্টার বেশি। এই রোডে যানজট বেশি থাকে ফার্মগেট ও শাহবাগ এলাকায়।

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান বলেন, “ট্রাফিক আইন মেনে চললে এবং শৃঙ্খলা মেনে গাড়ি চালালে অনেক সময় যানজট কম হয়। সড়কে বিশৃঙ্খল ও এলোমেলোভাবে গাড়ি চালালে, যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে রাখলে যানজট হবেই। আর যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানোর জন্য যানজট বৃদ্ধি পায়। সে জন্য আমাদের মাইন্ডসেট ইতিবাচক করতে হবে।”

অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, “ঢাকা সিটির অনেক জায়গায় উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। সে কারণেও যানজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় রাস্তার কাজের জন্য বেশি যানজট তৈরি হচ্ছে। ঢাকা শহরে যানজট কমিয়ে আনতে হলে শুধু ট্রাফিক পুলিশ কিছুই করতে পারবে না। সেজন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যানজট নিরসনে স্কুলের বাচ্চাদের যাতায়াতের জন্য স্কুলবাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, “ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে স্কুলে আসা যাবেনা। স্কুলে যাতায়াতের জন্য ঢাকা উত্তর সিটির ব্যবস্থাপনায় স্কুলবাস চালু করা হবে। এখন পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল বাস সেবা চালু হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক স্কুলে একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়। এরকম অসংখ্য গাড়ি রাস্তায় চলাচল করে। স্কুল বাস চালু হলে, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার অনেক কমে যাবে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল বাসে একসঙ্গে যাওয়া-আসা করলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হবে এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হবে।”

উত্তর সিটির মেয়র আরও বলেন, “অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে পারলে, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার প্রবণতা কমবে। নগরীর যানজট কমাতে এটি অনেক সহায়ক হবে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, “যানজট নিরসনে আমরা সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছি। বিভিন্ন রাস্তায় চলমান উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বর্তমানে একটু বেশি যানজট হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে দুই সিটি মিলে উদ্যোগ নিয়েছি। একটি কোম্পানির অধীনে গণপরিবহন পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা হলে, সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ কমে আসবে।”

“এছাড়াও ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও কিভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে;” উল্লেখ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ।

XS
SM
MD
LG