অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ছুটির দিনেও ঢাকা মহানগরে লোডশেডিং, নাগরিক ভোগান্তি

ছুটির দিনেও ঢাকা মহানগরে লোডশেডিং, নাগরিক ভোগান্তি।
ছুটির দিনেও ঢাকা মহানগরে লোডশেডিং, নাগরিক ভোগান্তি।

বাংলাদেশে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। বিদ্যুৎ গ্রাহকরা আশা করেন এই দুই দিন অন্তত তারা নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ পাবেন। ছুটির দিনে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতোই বারবার লোডশেডিং হওয়ায়, ঢাকা মহানগরের জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, শনিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতির পূর্বাভাসরয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৪ অক্টোবর টানা ৭ ঘন্টা জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের পর, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে, এখনও উৎপাদন আগের স্তরে পৌঁছেনি।

কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকা শহর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় শুক্র ও শনিবার ২৫০০ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে, দৈনিক ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং এখন তাদের দিনে তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ডেসকো ও ডিপিডিসি উভয় প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা দিনে তিন থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

রামপুরা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা ৫ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং অনুভব করছি।” ডিপিডিসি ও ডেসকো আওতাধীন অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

ডিপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেছেন, “ডিপিডিসি দিনে ৩০০ মেগাওয়াট কম উৎপাদন নিয়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিচালনা করছে এবং রাতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।”

ডিপিডিসি ঢাকা শহরের মধ্য ও পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এবং নারায়ণগঞ্জের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে আছে।

বিকাশ দেওয়ান বলেন, “আমাদের ডিপিডিসি আওতাভুক্ত এলাকায়; যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, সেনানিবাস এবং অধিকাংশ সরকারি হাসপাতাল রয়েছে; সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে বিপিডিবি থেকে তুলনামূলক কম লড়াই করতে হচ্ছে।”

শনিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ডিপিডিসি ১৪০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট পেয়েছে এবং কর্মদিবসে চাহিদা এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা শহরের উত্তর ও পূর্ব অংশ এবং টঙ্গী শিল্প কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাউসার আমীর আলী বলেন, “বিতরণ সংস্থাটি ১৮২ টি লোডশেডিং-সহ ৯৩২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে।”

“সন্ধ্যা হলে ডেসকো এলাকায় লোডশেডিং-এর মাত্রা বাড়তে পারে;” জানান ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি)-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সরকারি পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে বলেন, “শুক্রবার (৭ অক্টোবর) দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ৮৮৯ মেগাওয়াট। অপেক্ষাকৃত কম চাহিদা থাকার পরও, দিনের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। ঐ দিন লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে এক হাজার ১১ মেগাওয়াট।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার মতে, শনিবার সর্বোচ্চ চাহিদার পূর্বাভাস ১৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট এবং জেনারেশন পূর্বাভাস ১২ হাজার ৪৩৫ মেগাওয়াট। আর, সারাদেশে এক হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। কঠোরতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সরকার সকল ডিজেল-চালিত প্ল্যান্ট বন্ধ রাখছে। আর, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির জন্য অনেক প্ল্যান্ট বন্ধ থাকছে। ঐ কর্মকর্তা আরও জানান যে সরকারি পরিসংখ্যানে কখনও কখনও বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রকৃত ঘাটতির সঠিক চিত্র পাওয়া যায়না। এটা কেবল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর শেষে রেকর্ড করা উৎপাদনের পরিমাণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।

এদিকে বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোদমে চালু হয়নি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৭০০ মেগাওয়াটের বিপরীতে মোট ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কারণ মোট ৭টির মধ্যে এখনও ৬টি ইউনিট উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।

This item is part of
XS
SM
MD
LG