অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কাটিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সব দুর্যোগ কাটিয়ে বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, “দুর্যোগ প্রতিরোধী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে ‍নিজের অবস্থান করে নিয়েছে। আমরা দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম…আমাদের এই অবস্থান বজায় রাখতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়াল প্লাটফরমে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এসময় তিনি ২৫টি জেলায় ত্রাণ গুদাম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র, ৮০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৫০টি মুজিব কিল্লা (বন্যার সময় জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য নির্মিত স্থাপনা) উদ্বোধন করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তার সরকারের সাফল্য ও পদক্ষেপের প্রতি আলোকপাত করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাঙালি জাতিকে কেউ আর অবমূল্যায়ন করতে পারবে না। দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কোনো কিছুই বাধা দিতে পারবে না। আমরা সব ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলা করে, আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাব – হোক সেটা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, তার সরকার ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন করেছে এবং এটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। যে কোনো পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় তার সরকার সব সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাযর বিষয়ে সতর্ক থাকে বলে জানান শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাস্তা, সেতু ও স্কুল নির্মাণের সময় আমরা বৃষ্টির পানি বা বন্যার পানির চ্যানেল করার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করা বিষয়ে সজাগ থাকি। পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে সরকার খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয় পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নদীগুলো ড্রেজিং করছে। আমরা নদীভাঙন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস,প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের লক্ষ্যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) প্রণয়ন করেছে। এছাড়া, সারাদেশে মোট চার হাজার ২০০ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৪২৩টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র এবং ৬৬ টি ত্রাণ গোডাউন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।”

প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ, অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী হওয়ার মতো কার্বন নিঃসরণ করে না বাংলাদেশ। তবুও আমাদের দেশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। উন্নত দেশগুলো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে জলবায়ু তহবিল প্রদানে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়। দুর্ভাগ্যজনক যে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো তাদের (উন্নত দেশের) প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খুব কমই তহবিল পায়।”

“আমাদের নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ এলাকা সম্প্রসারণ করতে হবে; বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আওতায়, দুইজন সেরা স্বেচ্ছাসেবক; লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার জয়শ্রী রানী দাস এবং ভোলার লালমোহনের মো. জসিম উদ্দিনকে পুরস্কৃত করা হয়। ভবিষ্যতে পুরস্কার-প্রাপ্তদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

XS
SM
MD
LG