অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানে বিক্ষোভের পাশাপাশি কারাগারে অগ্নিকাণ্ড


রয়টার্সের সংগ্রহ করা এক ভিডিও থেকে নেওয়া এই ছবিটিতে, ১৫ অক্টোবর ২০২২ তারিখে তেহরানের এভিন কারাগার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে।

তেহরানের এভিন কারাগারে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার কারাবন্দি নিহত ও ৬১ জন আহত হয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে। ঐ স্থাপনাটিতে রাজনৈতিক বন্দি ও সরকারবিরোধী সক্রিয়কর্মীদের আটক রাখা হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের রবিবার সম্প্রচারিত ভিডিওতে আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় যে, স্থাপনাটিতে শান্তি ফিরেছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নিহত চারজনের শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে ধোঁয়া প্রবেশ করায় তাদের মৃত্যু হয়েছে এবং অপর আরও চারজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নিহত চারজন ডাকাতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

ইরানে চলমান বিক্ষোভগুলোর মধ্যেই শনিবার ঐ অগ্নিকাণ্ড হয়। আন্দোলনটি বর্তমানে পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর জেরে বিক্ষোভগুলো আরম্ভ হয়। যথাযথভাবে হিজাব না পরার কারণে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশী হেফাজতেই মারা যান আমিনি।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, কয়েকঘন্টা পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে এবং কোন বন্দিই পালাতে পারেনি।

অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী অবস্থা প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় টিভি’র সম্প্রচারিত ভিডিওটিতে, একটি ঘরের পুড়ে যাওয়া দেওয়াল ও ছাদ দেখা যায়। তাতে বলা হয়, ঐ ঘরটি কারাগারের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপরের তলার একটি কক্ষ।

তেহরানের গভর্নর মোহসেন মানসুরি বলেন, সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে “কয়েকজন কারাবন্দির মধ্যে লড়াইয়ের কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।” তিনি আরও বলেন, কারাবন্দিদের জন্য “কর্মসংস্থান তৈরি করতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছিল।”

ইরানের রাষ্ট্র-পরিচালিত আইআরএনএ সংবাদ সংস্থাটি এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে শনিবার জানায় যে একটি ওয়ার্ডের কারাবন্দিরা কারারক্ষীদের সাথে লড়াই করেছিল। ঐ কর্মকর্তা বলেন, কারাবন্দিরা কারা ইউনিফর্ম ভর্তি একটি গুদামঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে তেহরানের অভিশংসক আলী সালেহি বলেন যে, আমিনির মৃত্যুর জেরে দেশ জুড়ে হওয়া বিক্ষোভের সাথে কারাগারের এই বিশৃঙ্খলা সম্পর্কিত নয়।

XS
SM
MD
LG