অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আজারবাইজান সীমান্তে সামরিক মহড়া করছে ইরান


২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্স-এর সরবরাহ করা এই ছবিতে উত্তর-পশ্চিম ইরানে একটি মহড়ায় অংশ নেওয়ার সময় সেনারা দাঁড়িয়ে আছে। ১৭ অক্টোবর, ২০২২। ফাইল ছবি।

ইরান এবং আজারবাইজানের মধ্যে উত্তেজনার লক্ষণ দেখা দেওয়ায়,আজারবাইজান-ইরান সীমান্তে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর।

ইরানের রাষ্ট্রচালিত সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার শুরু হওয়া মহড়াটি পূর্বপরিকল্পিত বার্ষিক মহড়ার নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

যেখানে মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে,সেখানে রয়েছে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান এবং আর্দাবিল প্রদেশ। এই প্রদেশ দুটি বৃহত্তর আজারবাইজানি জনগোষ্ঠির আবাসস্থল।

মহড়ার বিষয়ে আজারবাইজানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তেহরান বাকুকে মহড়ার বিষয়ে অগ্রিম নোটিশ দিয়েছিল। এ বিষয়ে উভয় দেশের সামরিক নেতারা আগেই আলোচনা করেছেন।

রবিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর সাথে কথা বলার সময়, আইআইজিসির স্থল বাহিনীর উপ-সমন্বয়কারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান, সমগ্র ককেশাস অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। যদিও ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি আজারবাইজানকে ইরানের জন্য হুমকি বলে মনে করে না পুরজামশিদিয়ান বলেন,“তেহরান মনে করে যে,ককেশাস অঞ্চলে ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর উপস্থিতি”কে সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পুরজামশিদিয়ান দৃশ্যত ইসরাইলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

ইসরাইল আজারবাইজানের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে অন্যতম। আর, ইসরাইলের সাথে আজারবাইজানের সামরিক সহযোগিতা, ইরানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইলের সাথে আজারবাইজান নতুন একটি সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

সীমান্তে ইরানের সামরিক মহড়া আজারবাইজানেও খানিকটা সমালোচনার মুখে পড়েছে।

আজারবাইজানের একজন প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোফিগ জুলফুগারভ ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন যে ইরানের সামরিক মহড়াকে তার দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি।

ভয়েস অফ আমেরিকা, আজারবাইজানি বিভাগ থেকে নেওয়া এ প্রতিবেদনটি তৈরিতে তাপদিগ ফরহাদগলু এবং হামিদ মালিকগলু সহায়তা করেছেন।


XS
SM
MD
LG