অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিরিয়ার ইদলিবে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের অধিকার কর্মকর্তারা


২০২২ সালের ৬ নভেম্বর রবিবার সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের মারাম ক্যাম্পে গোলাগুলি পরবর্তী অবস্থা।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তারা সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষের আবাসন শিবিরের ওপর সিরিয়ার সরকার সমর্থক বাহিনীর একাধিক মারাত্মক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, স্থলভিত্তিক হামলা এবং বিমান হামলার মাধ্যমে ৯টি ক্যাম্পে আঘাত করা হয়েছে। সংস্থাটি অন্তত ৭ জন বেসামরিক নাগরিকের হত্যা এবং ২৭ জনের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তবে বিরোধী সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স ফোর্স আরও বেশি মানুষের আহত ও নিহত হওয়ার সংবাদ জানিয়েছে। ক্লাস্টার বোমা হামলায় ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ৭৫ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আহত হয়েছে। ক্লাস্টার বোমা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ।

দীর্ঘ সময়ের আপেক্ষিক শান্তির পরে দুই সপ্তাহ আগে উত্তর সিরিয়ায় ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী হে-আত তাহরির আল-শাম এবং কিছু তুর্কি-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। মানবাধিকার মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স বলেছেন, তার কার্যালয় সতর্ক করেছিল যে, সংঘাত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তা অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সিরিয়ায় অবশিষ্ট বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিবে বাস করে। এদের মধ্যে অর্ধেক মানুষ বাস্তুচ্যুত। ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়ের জন্য জাতিসংঘের কার্যালয় জানিয়েছে, সহিংসতার এমন উত্থানের কারণে অন্তত ৪শ পরিবার নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

জাতিসংঘের অনুমান, ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩ লাখের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। তারা জানায়, ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ সিরিয়ার অভ্যন্তরে বা প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা সিরিয়াকে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি সংকটের স্থানে পরিণত করেছে।

XS
SM
MD
LG