অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়া থেকে পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপের সম্ভাবনা কম, বললেন বাইডেন


ইন্দোনেশিয়ার বালিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন, ১৪ নভেম্বর, ২০২২।

নেটো এবং গ্রুপ অফ সেভেনের নেতারা, বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বালিতে, গ্রুপ অফ টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। এতে তারা পূর্ব পোল্যান্ডে বিস্ফোরণ নিয়ে কথা বলেন। পোল্যান্ড ঐ বিস্ফোরণের জন্য রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করেছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে এটি একটি উল্লেখযোগ্য বিস্তার।

বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা ইউক্রেনীয় সীমান্তের কাছে পোল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলে বিস্ফোরণের বিষয়ে পোল্যান্ডের তদন্তকে সমর্থন করতে সম্মত হয়েছি এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা যাতে খুঁজে বের করা যায় তা নিশ্চিত করব।"

বিস্ফোরণের পর জরুরি এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কানাডা, ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় কাউন্সিল, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, যুক্তরাজ্যের নেতাদের ডেকে পাঠান।

বাইডেন বলেন, এই মুহূর্তে রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপের সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, পুরোপুরি তদন্ত না করে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, পোল্যান্ডে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছিল।

জাতিসংঘে মস্কোর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রাশিয়া ও নেটোর মধ্যে যুদ্ধ শুরু করার জন্যই এই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

দমিত্রি পলিয়ানস্কি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে বলেছেন,

"নেটো এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বিশ্বের জন্য খারাপ পরিণতি আনবে ।"

বুধবার তাদের জরুরি বৈঠকে নেতারা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সর্বশেষ সিরিজ নিয়েও আলোচনা করেছেন। বাইডেন , মস্কোর কর্মকাণ্ডকে ‘’পুরোপুরি অবিবেচক’’ বলে অভিহিত করেছেন।

দুই ইউরোপীয় কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর এই প্রথম কোনো নেটো দেশের ওপর রুশ অস্ত্র নিক্ষেপ করা হলো। ওয়ারশ, জোটের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তির ৪ নং অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে নেটোর একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে।

আর্টিকেল ৪ অনুযায়ী, সদস্যরা যে কোন উদ্বেগের বিষয় উত্থাপন করতে পারেন, বিশেষ করে একটি সদস্য দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কিত কোন বিষয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি এই আঘাতকে যুদ্ধের "অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি " বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, বাইডেন যখন রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে তার বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘’আমি যদি আপনাদের প্রেসিডেন্ট হতাম তাহলে ইউক্রেনে কিছুই ঘটত না।‘’

রুশ প্রতিনিধি দলের প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরফ বালির ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিলেন না। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি দ্বীপ ছেড়ে চলে গেছেন।

ভিওএ-র হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতা অনিতা পাওয়েল এবং ভিওএ-র স্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্যুরোর প্রধান নাইকি চিং এই প্রতিবেদনে অবদান রেখেছেন। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস থেকে কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে।।

XS
SM
MD
LG