অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন—বাংলাদেশ


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন—বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো তুলে ধরতে এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বার্ষিক রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়।

রেজ্যুলেশনটি গৃহীত হওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আশ্রয় শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি প্রাপ্য। এই মানবিক সহায়তা পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন দরকার’।

বিবৃতিতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যুতে ওআইসি ও ইইউকে তাদের নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

রেজ্যুলেশনটিতে মিয়ানমারের প্রতি দেশটির মহাসচিবের বিশেষ দূত ও জাতিসংঘের সকল মানবাধিকার ব্যবস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থা যেমন আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বিষয়ে আসিয়ানের পাঁচ দফা ঐকমত্যের দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেজ্যুলেশনে চলমান ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলার অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশনের তদন্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

রেজ্যুলেশনটি বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ও বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইসিসি, আইআইএমএম ও অন্যান্য দায়বদ্ধ অংশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সদস্য দেশগুলোকে দায়িত্ব ও ভার ভাগাভাগির জন্য বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) মানবিক বিবেচনায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের (রোহিঙ্গা) বরাবরই মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কথা’।

তিনি আরও বলেন, ‘সেই লক্ষ্যে আমরা মিয়ানমারেরর পরিস্থিতির উন্নতি এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের সুবিধার্থে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পক্ষে বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েছি’।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, জাতিসংঘের এই রেজ্যুলেশন এবং তাদের উদ্দেশ্যও রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য আন্ত-আঞ্চলিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। যার ফলে রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হচ্ছে।

এই রেজ্যুলেশন জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুপ্রেরণা দেবে।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর যৌথভাবে পেশ করা এই রেজ্যুলেশনটি ১০৯টি দেশ সমর্থিত, যা ২০১৭ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।

রেজ্যুলেশনের প্রাথমিক গুরুত্ব ছিল মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটসহ রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি।

XS
SM
MD
LG