অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে অধিকার গোষ্ঠীগুলি


নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে তেহরানে ছাত্ররা বিক্ষোভ করছে। ৭ অক্টোবর, ২০২২।

ইরানের বিচার বিভাগ বলেছে যে রবিবার থেকে দুই মাসের প্রতিবাদ আন্দোলনে সরকারের দমন অভিযানে আটক পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাঁচজন বন্দী, যাদের মধ্যে কারো নাম উল্লেখ ছিল না, তাদের মধ্যে তিনজন রয়েছে যাদের বুধবার সাজা দেওয়া হয়।

ভয়েস অফ আমেরিকাকে পাঠানো একটি বার্তায়, অসলো-ভিত্তিক গ্রুপ ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, ইরান সরকার আবারও জনসাধারণকে ভয় দেখানোর জন্য মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করছে। অনেক ইরানি এই ধরনের ভয় কাটিয়ে উঠেছে, ৪৩ বছরের ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ মানুষ দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর বারবার সহিংস দমনকে অস্বীকার করেছে।

আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একটি অত্যন্ত জোরালো সংকেত পাঠানো যে এমনকি শুধু যদি একজন প্রতিবাদকারীরও মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় তাহলেও মারাত্মক পরিণতি হবে"।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, লন্ডন-ভিত্তিক অধিকার গোষ্ঠী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে যে তারা দমন-পীড়নে আটক ২১ জন নামধারী ব্যক্তির আদালতের মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে "ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা" এবং "পৃথিবীতে দুর্নীতি," এই দুইটি মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

গোষ্ঠীটি বলেছে যে ইরানের বিচার বিভাগ যে অভিযোগগুলিকে এই শাস্তির দিকে পরিচালিত করেছিল তার উপর ভিত্তি করে এই ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন বিচার বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত পাঁচটি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছে । অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পাঁচজনের নাম জানিয়েছে, মোহাম্মদ বরোঘানি, মোহাম্মদ ঘোবাদলউ, মাহান সেদারাত মাদানি, মানুচেহর মেহমান-নাওয়াজ এবং সাহান্দ নুরমোহাম্মদ-জাদেহ।

অ্যাডভোকেসি গ্রুপটি বলেছে, “অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের অন্যান্য সরকারকে যাদের ইরানে দূতাবাস রয়েছে তাদের অবিলম্বে চলমান সমস্ত বিচারে উচ্চ পর্যায়ের পর্যবেক্ষক পাঠাতে অনুরোধ করছে যেখানে আসামীদের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে যে এই ধরনের বিচার জনসম্মুখে হবে।

ভয়েস অফ আমেরিকা ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে ইমেল পাঠিয়েছে, যাতে তারা জানতে চেয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিযোগ্য গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি আটক বিক্ষোভকারীদের বিচারে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য তারা অনুরোধ করার পরিকল্পনা করছে কিনা। তেহরানে তিনটি দেশেরই দূতাবাস রয়েছে, তবে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের লন্ডন-ভিত্তিক ইরান বিষয়ক গবেষক রাহা বাহরেনি বৃহস্পতিবার ভয়েস অফ আমেরিকার ভয়েস বার্তায় বলেছেন যে ইরানের বিচারে পর্যবেক্ষকদের জন্য আন্তর্জাতিক অনুরোধ গ্রহণ করার কোনো নজির তিনি জানেন না এবং তিনি আশা করেন না যে শীঘ্রই যে কোনও সময় তা পরিবর্তন হবে।

XS
SM
MD
LG