অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে ১ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ক্রিকেট ম্যাচে জয়ের পর উল্লাস করছেন বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪ ডিসেম্বর, ২০২২।
ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ক্রিকেট ম্যাচে জয়ের পর উল্লাস করছেন বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪ ডিসেম্বর, ২০২২।

ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে, ১ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার(৪ ডিসেম্বর) মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিং নৈপুণ্যে, আর সাকিব আল হাসানের বোলিং-এ ধরাশায়ী হয় ভারত।

১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে, ১৩৬ রানে ৯ম উইকেট হারায় টাইগাররা। তখনও প্রয়োজন ৫১ রান। উইকেটে তখন মেহেদী হাসান মিরাজ আর মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজকে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রেখে, পারতপক্ষে সিঙ্গেল না নিয়ে মিরাজ খেলেন এক অভাবনীয় ইনিংস। এই ম্যাচের জয়, স্বাগতিকদের সিরিজে এগিয়ে রাখবে।

২৭ বলের ব্যবধানে ১২৮ থেকে ১৩৬ পর্যন্ত, বাংলাদেশের ব্যাটারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স। ৮ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলের জন্য এই জয় অপ্রত্যাশিত ছিল। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে স্বাগতিকদের স্মরণীয় জয়ে নেতৃত্ব দেন মেহেদী ও মুস্তাফিজুর। মেহেদী ৩৯ বলে ৪টি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১১ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন মুস্তাফিজও।

১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে, বাংলাদেশ ৯৫ রানের মধ্যে চার উইকেট হারায়। ফলে শুরুটা মন্থর হয়ে পড়ে। লিটন দাস টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৩ বলে ৪১ রান করেন, আর নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম বলেই আউট হন। এরপর বিজয় ও অধিনায়ক লিটন ২৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। তবে, বিজয় তার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি, ২৯ বলে ১৪ রান করে আউট হন তিনি। ২৯ রান করে ওয়াশিংটন সুন্দরের দ্বিতীয় শিকার সাকিব আল হাসান।

পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম টাইগারদের পথ দেখালেও, ৬৯ বলে ৩৩ রান যোগ করতে সক্ষম হন তারা। তাদের ধীরগতির ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় সমস্যায় ফেলে। ৩৫তম ওভারের শেষ বল এবং ৩৬ তম ওভারের প্রথম বলে এই অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার আউট হলে, স্বাগতিকদের চাপ আরও বেড়ে যায়। এরপর আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজের মধ্যে মধ্যে একটা জুটির আশা করছিল সমর্থকরা।আফিফ হোসেন ৬ রানে, কুলদীপ সেনের বলে আউট হয়ে গেলেও, শেষ বিকেলে ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা দেখান মিরাজ।

তিনি সাহসিকতার সঙ্গে লক্ষ্যে অবিচল থাকেন এবং বলতে হবে ভাগ্য তার সাহসের পক্ষে ছিল। ভারতীয় উইকেটরক্ষক যখন মেহেদীর একটি ক্যাচ মিস করেন, তখনই বাংলাদেশ জয়ের টার্নিং পয়েন্ট পেয়ে যায়। মিরাজের এই লাইফের কল্যাণেই বাংলাদেশ ৪৬ ওভারে ১৮৭ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এবং অবশেষে এক উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পায়।

১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে ভারতের বোলারদের মধ্যে সেরা ছিলেন মোহাম্মদ সিরাজ। কুলদীপ এবং ওয়াশিংটন দারুণ বোলিং পারফরম্যান্স দেখান এবং প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

ভারতের দীপক চাহারকে আউট করার পর বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের প্রতিক্রিয়া। ৪ ডিসেম্বর, ২০২২।
ভারতের দীপক চাহারকে আউট করার পর বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের প্রতিক্রিয়া। ৪ ডিসেম্বর, ২০২২।

এর আগে চমৎকার পারফরমেন্স দেখান তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে তার প্রথম পাঁচ উইকেট তুলে নেন। ভারতীয় ব্যাটারদের কেউ লাইনের ভেতর থেকে সাকিবের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেন, কেউবা লাইনের বাইরে চলে যান। সাকিবের দক্ষ বোলিং মোকাবেলা করা তাদের জন্য সহজ ছিল না।

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব তার প্রথম ওভারেই ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং তাদের তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির উইকেট তুলে নেন। সাকিব ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপকে শাসন করেন এবং তার সপ্তম ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে ওডিআইতে ভারতের বিরুদ্ধে সেরা বাঁহাতি স্পিনারের পারফরমেন্স রেকর্ড করেন। এর মধ্যদিয়ে সাকিব সাবেক ইংলিশ স্পিনার অ্যাশলে গাইলসকে ছাড়িয়ে, ভারতের বিরুদ্ধে বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে সেরা বোলিং ইনিংসের রেকর্ড গড়েন। ২০০২ সালে দিল্লিতে ৫৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন গাইলস।

সাকিব একটি সোজা ডেলিভারি দিয়ে রোহিতকে অবাক করে দিয়ে তার উইকেট তুলে নেন। ৩১ বলে ২৭ রান করে ফেরেন রোহিত। একই ওভারে সাকিবের আরেকটি বলে, বাংলাদেশের নবনিযুক্ত ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস তার ডান দিকে লাফিয়ে পড়ে বিরাট কোহলির উইকেট শিকারে সাহায্য করেন। এই অবিশ্বাস্য ক্যাচটি মিরপুরের দর্শকরা বহুদিন মনে রাখবে। বিরাট স্পষ্টতই লিটনের অসাধারণ ফিল্ডিং দক্ষতায় বিস্মিত হয়েছিলেন। অবশেষে ১৫ বলে ৯ রান করে ঘরে ফেরেন কোহলি।

ডানহাতি পেসার এবাদত হোসেন ৪৭ রানে ৪টি উইকেট নেন। যা তার সংক্ষিপ্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা। বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে শুধুমাত্র লোকেশ রাহুল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ৭০ বলে পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৭৩ রান করেন।

This item is part of
XS
SM
MD
LG