অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মির্জা ফখরুলকে কার্যালয়ে যেতে পুলিশের বাধা—ফখরুলের দাবি বিএনপির কার্যালয়ে বোমাগুলো পুলিশই রেখেছিল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে বাধা দেয় পুলিশ।

সকালে ঢাকার অতিরিক্ত প্রধান মহানগর হাকিম মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে হাজির হওয়ার পর মির্জা ফখরুল বেলা ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে বিজয়নগর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাঁকে কার্যালয়ে যেতে বাধা দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বিএনপির এই নেতাকে বলেন, নিরাপত্তার কারণে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাউকে বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকতে দেবে না। কারণ সেখান থেকে বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, পুলিশই দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বোমাগুলো রেখেছিল।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব হয়েও আমাকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে দেয়া হয়নি। এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের অফিসে বোমা সম্পর্কে পুলিশ অফিসার যা বলেছেন তা নির্লজ্জ মিথ্যা। তারা (পুলিশ) নিজেরাই বোমাগুলো নিয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে রেখেছিল’।

এদিকে পুলিশের অভিযানের পর বুধবার রাত থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ফাঁকা থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

বুধবার রাত থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিজয়নগর ও ফকিরাপুল সংযোগ লাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কোনো যানবাহন দেখা যায়নি।

বুধবারের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায়নি।

সকাল ১০টা পর্যন্ত ওই এলাকার অধিকাংশ অফিস, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, বিপুলসংখ্যক পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় তারা আতঙ্কিত। তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে যেতেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেও জানান তারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার দাবি করেছিলেন যে, তাদের দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের হামলায় তাদের ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই নেতা নিহত ও শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া দলের কার্যালয় থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম ও উত্তর মহানগর শাখার আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানসহ বিএনপির প্রায় ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বিএনপির লোকজন তাদের দলীয় কার্যালয় থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তার জন্যই অভিযান চালানো হয়’।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছি। তারা (বিএনপি) সমাবেশ করার পূর্বানুমতি নেয়নি’।

XS
SM
MD
LG