অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত থাকার 'বিতর্কাতীত' প্রমাণ জাতিসংঘে পেশ করছে পাকিস্তান


পাকিস্তানের লাহোরে বিস্ফোরণের স্থানটি পরীক্ষা করছেন একজন উদ্ধারকর্মী। ২৩ জুন, ২০২১ (ফাইল ফটো)। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ভারতের যোগসূত্র রয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার বলেছেন,পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িত "অনস্বীকার্য" এবং "'বিতর্কাতীত'" ভাবে ভারতের সংযোগ খুঁজে পেয়েছে পাকিস্তান। সেই প্রমাণগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে পেশ করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শীগগিরই "দলিল পত্রাদী" পেশ করা হচ্ছে। এতে সন্ত্রাসবাদের অন্যান্য ঘটনার মধ্যে পাকিস্তানের লাহোরে ২০২১ সালের একটি মারাত্মক গাড়ি বোমা হামলায় নয়াদিল্লির ভূমিকার "বিশদ প্রমাণাদী" রয়েছে।

খার বলেন, "আমরা আজকে যে বিষয়টি তুলে ধরছি তা করার জন্য আমাদের কাছে শক্তিশালী, শক্ত প্রমাণ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি।"

ওই বোমা হামলায় চারজন নিহত এবং আরো অনেকে আহত হয়।

তিনি বলেন, "আমরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে দলিলের অনুলিপি পেশ করেছি কিংবা তা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।"

খার বলেন, "আমরা আশা করছি, তারা এই প্রমাণগুলি খতিয়ে দেখবে এবং তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে। কারণ, লাহোর বিস্ফোরণের শিকাররা ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে।"

মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সহিংসতার সাথে জড়িত পাকিস্তানি সন্দেহভাজনদের ইতোমধ্যেই বিচারের আওতায় এনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ আছে যে, ওই বোমা হামলার সহায়ক এবং মূল হোতা ভারতেই অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, "আমরা চাই ভারত তাদের হস্তান্তর করুক ... এবং ভারত যদি একটি দায়িত্বশীল জাতি হয়, তারা সহযোগিতা করবে।" খার আরও বলেন, ইসলামাবাদও ভারতীয় সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তায় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

ভারতের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের অভিযোগের কোনও জবাব দেননি।

লাহোর হামলাটি ভারতের মুম্বাই শহরে ২০০৮ সালের মারাত্মক হামলার জন্য দায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-তৈয়বা জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, এবং একজন ইসলামপন্থী নেতা হাফিজ সাইদের বাসভবনের কাছে ঘটেছিল।

সাঈদ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করার ভারতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওই হামলায় বিদেশীসহ ১৬৬ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। ভারত বিরোধী জঙ্গিদের অর্থায়নের অভিযোগে তিনি বর্তমানে পাকিস্তানে জেল খাটছেন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি ভারত, একটি বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ পদ্ধতির জন্য এগিয়ে যাওয়ার পথে ১৫-জাতি সংস্থার একটি বৈঠকের সভাপতিত্ব করতে প্রস্তুত হওয়ার একদিন আগে খার এ কথা বলেন।

নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয় ও অর্থায়নের অভিযোগ করে আসছে, যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে।

ভারত নিয়মিতভাবে মুম্বাই হামলার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তবে, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের ভারতীয় প্রতিপক্ষরা হেফাজতে থাকা বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন অপরাধীর সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি।

ভারত এবং পাকিস্তান নিয়মিতভাবে একে অপরকে তাদের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য অভিযুক্ত করে। তবে, অভিযোগগুলি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দক্ষিণ এশীয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটি বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

XS
SM
MD
LG