অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে বিজয় দিবস


বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে বিজয় দিবস

উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশে শুক্রবার ১৬ ডিসেম্বর উদযাপিত হচ্ছে বিজয় দিবস। ১৯৭২ সাল থেকে এই দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করে আসছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে পাকিস্তান বাহিনীর ৯১ হাজার ৬৩৪ জন সদস্য লেঃ জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজির নেতৃত্বে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিজয় দিবসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহিম বীর প্রতীক ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, "ঢাকায় গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। ৬ ডিসেম্বরের পর ঘটনা প্রবাহ দ্রুত সামনের দিকে যেতে থাকে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী উপস্থিত না থাকতে পারলেও ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ কে খন্দকার, বেসরকারি কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, মেজর হায়দার বীর উত্তম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে মিত্রবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন যৌথবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরা। সে দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা টেবিলটি ছিল ঢাকা ক্লাব থেকে নেওয়া। যা এখন সংরক্ষিত আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তান কারাগারে বন্দী। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত মুজিবনগর সরকার নয় মাস যুদ্ধ পরিচালনা করে। নয়টি সেক্টরে বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল মুক্তিবাহিনী। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ৩০ লাখ মানুষ তাদের জীবন আত্মদান করেছিল। ইজ্জত বিসর্জন দিতে হয়েছিল ২ লাখ মা-বোনকে। দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষকে। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যের কোনো মিল ছিল না। সে কারণে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাঙালিকে আলাদা অবস্থানের নির্দেশ দেন। ছাত্র জনতা সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে পথ চলা শুরু করে। এরপরই পাকিস্তানি বাহিনী ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে ওঠে। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাঙালিরাও। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়।"

বাংলাদেশ বিজয়ের ৫১ বছর পূর্ণ করছে। মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে আজ বিজয় দিবস উদযাপন কর্মসূচি পালন হচ্ছে বাংলাদেশে। সকাল থেকেই জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় কুচকাওয়াজ ও বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সড়কগুলো সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকা দিয়ে। সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে সম্মান জানানো হচ্ছে বীর শহীদদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রাতে বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বেতার টেলিভিশনে বক্তব্য রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে দূতাবাসগুলোতে বিজয় দিবসে আলাদা কর্মসূচি থাকছে।

বিজয় দিবসকে ঘিরে বর্তমান বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে লেখক, সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, "বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ দিয়েছেন। সেই দেশটি আজ বিশ্বে অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে নতুন মর্যদা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের এই এগিয়ে চলা আমাদের ধরে রাখতে হবে। লালন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে।"

XS
SM
MD
LG