অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

টানা ৩দিন ধরে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে পঞ্চগড়ে


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২।

বাংলাদেশের হিমালয়ের কোল ঘেষা জেলা হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত তিন দিন ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। বাড়ছে শীতের তীব্রতাও। রবিবার (১ জানুয়ারি ) সকাল ৯ টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবে, গত শুক্রবার ও শনিবারও এখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

সন্ধ্যা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত উত্তরের হিমেল হওয়া ও ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশা পড়তে শুরু করে প্রতিদিন। সকাল ৮/৯টা পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারদিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা হালকা হলেও, হিমেল হাওয়ায় শীতের অনুভুতি কমছে না। যানবাহনগ চলাচল করছে হেড লাইট জ্বালিয়ে।

এমন শীত পরিস্থিতিতে, দুর্ভোগ বেড়েছে রিকশা-ভ্যান, অটো চালক, দিনমজুর খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের। কনকনে ঠাণ্ডার কারণে ঘর থেকেই বের হতে পারছে না তারা।তাই আয় রোজগার কমেছে ব্যাপক হারে। গ্রামাঞ্চলে রয়েছে শীতবস্ত্রের অভাব। তাই, দরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন, ২৫ হাজার শীতার্ত মানুষের কাছে কম্বল বিতরণ করেছে।

জেলা শহরের ভ্যান চালক আনারুল জানান, “সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না। সকালে বাড়ি থেকে বের হলেও রাস্তাঘাটে লোকজন না থাকায়, আয় রোজগার নেই। খুব বিপদে আছি।” জেলার সদর উপজেলার অমরখানা এলাকার বক্কর জানান, “বাতাস আর কুয়াশার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারি না। বাইরে বের হলে ঠান্ডা লাগে, কাজ নাই। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছি।” দিনমজুর সোহরাব আলী জানান, “ঠাণ্ডার কারণে সকালে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। বাজারে এসে কাজও পাচ্ছি না। কাজ না করলে খাবো কী।”

পঞ্চগড় আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. তৌফিক আহমেদ জানান, “হাসপাতালে ১০০ শয্যার বিপরীতে এখন রোগী আছে ১৬৪ জন। অনেক রোগীকে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। বহিঃবিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। ডায়রিয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট আক্রান্ত রোগীও রয়েছে।”

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান রোকন জানান, “উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আজকে (১ জানুয়ারি) সকাল ৯ টায় তেঁতুলিয়া ও শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার ও শুক্রবার তেঁতুলিয়া ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। কুয়াশা বাড়লে কোন কোন সময় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তবে হাওয়ার করানে শীতের অনুভুতি কমে না।”

তিনি আরও জানান, “যখন আকাশ পরিস্কার থাকে তখন হিমালয়ের হিমেল বাতাস সরাসরি এই এলাকায় প্রবাহিত হয়। আর, তাপমাত্রা নিচে নামতে থাকে। বর্তমানে এখানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে।”

XS
SM
MD
LG