অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনা—খন্দকার মোশাররফ হোসেন


খন্দকার মোশাররফ হোসেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হলো আওয়ামী লীগ সরকারকে হটিয়ে দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনা। বর্তমান ফ্যাসিস্ট শাসনের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত দেশকে অন্যায়, অপশাসন ও অপকর্ম থেকে মুক্ত করা যাবে না’।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকায় বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিগত বছরের মতো এবারও বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। বাইবেলের আয়াত পাঠের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ তার সকল নাগরিকের। কিন্তু এক চতুর্থাংশ আওয়ামী লীগ জনগণের বাংলাদেশ দখল করে লুণ্ঠনে লিপ্ত হয়েছে। তাই এখন আমাদের সামনে একটাই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ হলো দেশের মালিকানা যে জনগণের, তা পুনরুদ্ধার করা’।

এ জন্য দল-মত, ধর্ম-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই দেশকে উদ্ধার করতে হবে এবং জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এ কারণেই আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাংলাদেশকে উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। দেশকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এই লক্ষ্যে কাজ করছি’।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণতন্ত্র, অর্থনীতি, বিচার বিভাগ ও সামাজিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ায় বাংলাদেশ একটি সংকটময় মোড় অতিক্রম করছে। যারা এই সমস্ত জিনিসগুলো ধ্বংস করেছে তারা আবার এগুলো মেরামত করতে সক্ষম হবে না। সেজন্য আমরা রাষ্ট্রকে মেরামত করতে ২৭ দফা দিয়েছি’।

তিনি বলেন, তাদের ২৭ দফা ইতিমধ্যেই দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

বিএনপি সব ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সব ধর্মের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ২৭ দফার ১৩ ধারা অনুযায়ী, সকল ধর্মের বিশ্বাসীরা তাদের নিজ নিজ ধর্মের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন’।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সমস্ত সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ এবং তাদের উপাসনালয় হামলার শিকার হয়েছে এবং তারা তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম পালনে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন’।

তিনি বলেন, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সকল সম্প্রদায় ও ধর্মের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই ফ্যাসিবাদী সরকার থেকে মুক্তি চাই। গণতন্ত্র ছাড়া কোনো বিভাগই সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে না। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে সেটাই প্রমাণ করেছে। স্বাধীনতার পর বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে তারা তা করেছিল এবং এখন আবারও করেছে’।

XS
SM
MD
LG