অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চলতি অর্থবছরে বাজেটের প্রথম ত্রৈমাসিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক সন্তোষজনক—অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল


অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল

চলমান ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব সংগ্রহ, রেমিট্যান্স, রপ্তানি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ব্যয় এবং অর্থ সরবরাহসহ মৌলিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর অবস্থান সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পেশ করা এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেন।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে এবং এর ফলে বর্তমান বাজেটে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব বলে আশা করছি’।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ যা গত অর্থবছরে ছিল ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ।

২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে সরকারি ব্যয় ছিল ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ। চলতি অর্খবছরে এই ব্যয় ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া গত অর্থবছরে এডিপির বাস্তবায়নের হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। চলতি অর্খবছরে তা ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবের স্থিতি ঘাটতি ছিল। ফলে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে রিজার্ভে ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন (যুক্তরাষ্ট্রের) ডলারে নেমে আসে। যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ৪৬ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার’।

তিনি জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ যা আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এই আয় বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রবণতা আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনশীল ভূমিকা পালন করবে।… আমদানি ব্যয় (সিঅ্যান্ডএফ) বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ’।

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ সময়কালের পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিককরণ এবং মধ্যস্থতাকারী ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।… বর্তমানে বিলাসবহুল আইটেম এড়িয়ে চলা এবং সরকারের কঠোরতা প্রয়োগের কারণে আমদানি ব্যয় হ্রাস পেয়েছে’।

তিনি জানান, ২০২২ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চার দশমিক ৫৭ শতাংশ কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ ছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এটি ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে।

বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রাক্কলিত ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ২ দশমিক ২২ শতাংশ বাহ্যিক উৎস থেকে এবং ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রশমিত হবে।… মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে’।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং (যুক্তরাষ্ট্রের) ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে’।

XS
SM
MD
LG