অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের ‘তলিয়ে যেতে থাকা’ হিমালয়ের শহরটি নিয়ে উৎকন্ঠা


ভারতের প্রায় ডুবন্ত শহরে ফাটল

উত্তর ভারতের হিমালয়ে অবস্থিত একটি শহরের শত শত মানুষকে তাদের বাসা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঐ শহরটিতে ভূমি ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে।

জোশীমঠ-এর মোটামুটি ৪,৫০০ ভবনের মধ্যে প্রায় ৭০০টিতে ফাটল দেখা দিলে নিরাপত্তা বিষয়ে উৎকন্ঠা দেখা দেয়। এরপরই, এই মাসে এর আগে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের মালপত্র নিজেদের বাসা থেকে সরিয়ে নেওয়া আরম্ভ করেন।

অনেক পরিবারকেই শরণার্থী শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হোটেল ও বিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এই শিবিরগুলো তৈরি করা হয়। দুর্যোগ মোকাবিলা দলগুলোকেও মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জোশীমঠ-কে একটি ভূমিধ্বস ও অবনমন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর, অনিরাপদ হিসেবে বিবেচিত বাড়িগুলোকে চিহ্নিত করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন যে, কিছু কিছু স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে।

যদিও ভূমি অবনমনের নির্দিষ্ট কারণগুলো এখনও নির্ধারণ করা যায়নি, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, শহরটিতে ব্যাপক নির্মাণ এবং রাস্তা ও একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মত অবকাঠামো প্রকল্পগুলো হয়ত ভূমি তলিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তারা এর যুক্তিতে এমন গবেষণাগুলোর প্রতি নির্দেশ করেছেন, যেগুলোতে সতর্ক করা হয়েছিল যে, শহরটি প্রায় এক শ’ বছরেরও বেশি সময় আগে হওয়া একটি ভূমিধ্বসের ভগ্নাবশেষের এক নাজুক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে।

নয়াদিল্লীর সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এর টেকসই ভবন ও আবাসন কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক রাজনিশ সারিন বলেন, “জোশীমঠে যা হয়েছে তা আশ্চর্যজনক নয় কারণ এটি বেশ কিছুটা সময় ধরে ধীরে ধীরে সংঘটিত হয়েছে। যে চাপগুলো তৈরি হচ্ছিল তা আমরা জানি, আমরা জানি যে এই ফাটলগুলো সেখানে ছিলই।”

বাসিন্দারা বলছেন যে, গত বছর শহরটির কিছু কিছু স্থাপনায় ছোট ছোট ফাটল দেখা দিতে আরম্ভ করে। শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৯০০ মিটার উচ্চতায় একটি পাহাড়ের পাশে এমন জায়গায় অবস্থিত যেখানে দুইটি উপত্যকা মিলিত হয়েছে।


XS
SM
MD
LG