অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভয়েস অফ গ্লোবাল সাউথ সামিট: খাদ্য, জ্বালানি, সারের ঘাটতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহ্বান


ভয়েস অফ গ্লোবাল সাউথ সামিট: খাদ্য, জ্বালানি, সারের ঘাটতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহ্বান।

সদ্য অনুষ্ঠিত ভয়েস অফ গ্লোবাল সাউথ সামিটে খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের ঘাটতির ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তারা সমসাময়িক বাস্তবতা তুলে ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতার আহ্বান জানিয়েছে।

১২ থেকে ১৩ জানুয়ারি ভারত দুই দিনের এই সম্মেলনের আয়োজক। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ভার্চুয়াল ফর্ম্যাটে। এতে বাংলাদেশসহ গ্লোবাল সাউথের ১২৫টি দেশের নেতা ও মন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১২ জানুয়ারি উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। ১৩ জানুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত একটি সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে, সম্মেলনটি সমাপ্ত হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অধিবেশনে, মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক ভৌগলিক পরিবেশের ক্রমবর্ধমান বিভক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গ্লোবাল সাউথের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের জন্য কীভাবে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেন।

এর পর, আটটি মন্ত্রী পর্যায়ের বিষয়ভিত্তিক বৈঠকে, উন্নয়নশীল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ গুলো সমাধান করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। জ্বালানি মন্ত্রীদের অধিবেশনে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি এবং মানব উন্নয়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে জ্বালানিতে অধিগম্যতা, শক্তির উৎসের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে জ্বালানির সাশ্রয় নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য এবং বিকল্প জ্বালানি উদ্ভাবনের জন্য সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো ভাগাভাগি করা এবং জৈব জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

বাণিজ্য মন্ত্রীদের অধিবেশনে, মন্ত্রীরা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যবসা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার কৌশলগুলো তুলে ধরেন। তারা যোগাযোগ এবং বাণিজ্য সময়োপযোগী করা; জটিল প্রযুক্তি এবং সংস্থানগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা; তৃণমূল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য সৃষ্টির ওপর জোর দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের অধিবেশনে, অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। স্বাস্থ্য সেবায় ডিজিটাল পাবলিক পণ্যের বিকাশ, ঐতিহ্যগত ওষুধের প্রচার, জনসাধারণের সক্ষমতা তৈরি এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বিকাশের উপায় এবং জ্ঞান ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীদের অধিবেশনে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত করার ধারণা তুলে ধরা হয়। মন্ত্রীরা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষায় সমতা ও গুণমান প্রদানের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারে সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো বিনিময় করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর তার জি-২০ প্রেসিডেন্সির জন্য ভারতের মূল অগ্রাধিকার গুলো তুলে ধরেন এবং আশ্বাস দেন যে ভারত অংশীদার দেশগুলো থেকে উৎপন্ন মূল্যবান ইনপুটগুলো নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

অর্থমন্ত্রীদের অধিবেশনে, মন্ত্রীরা গ্লোবাল সাউথের উন্নয়ন চাহিদার অর্থায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অর্জন, আর্থিক খাতে ডিজিটাল পাবলিক পণ্যের বাস্তবায়ন এবং ফলাফল-ভিত্তিক এবং আর্থিকভাবে টেকসই উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

পরিবেশ মন্ত্রীদের অধিবেশনে, পরিবেশ সংরক্ষণে সর্বোত্তম অনুশীলন-এর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়।

XS
SM
MD
LG