অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ব্যাপক পুলিশি নির্যাতনের শিকারঃ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ


উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে হামলার পর আটক রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পাশে বসে আছে। ২৮ অক্টোবর, ২০২২। (এএফপি ছবি/ বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)। ফাইল ছবি।

মঙ্গলবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের একটি এলিট ইউনিট যাদেরকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি, তাদেরকে হয়রানি এবং অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারে নিয়োজিত রয়েছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে কাজ করে যেখানে রাষ্ট্রহীন সংখ্যালঘুদের প্রায় ১০ লাখ সদস্য রয়েছে, যাদের অধিকাংশই সামরিক বাহিনীর দমন অভিযানের পর প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে গেছে। মিয়ানমারের সামরিক দমন-পীড়নের বিষয়টি এখন জাতিসংঘের গণহত্যা সংক্রান্ত তদন্তের বিষয়।

শরণার্থী এবং ত্রাণ কর্মীরা নিউইয়র্ক ভিত্তিক নজরদারি গোষ্ঠীকে বলেছে, ২০২০ সালে ইউনিটটি ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার পরে নিরাপত্তার অবনতি হয়েছে। কিছু রোহিঙ্গা এএফপিকে বলে যে, নির্যাতন “একটি নিয়মিত ঘটনা” হয়ে গেছে।

অধিকার গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা দেশটির দক্ষিণ-পূর্বে বিস্তীর্ণ এবং উপচে পড়া ক্যাম্প নেটওয়ার্কে বসবাসকারী কয়েক ডজন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাথে কথা বলেছে, এপিবিএন কর্মকর্তাদের দ্বারা কৃত গুরুতর নির্যাতনের কমপক্ষে ১৬টি ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেছে। তাদের পরিবারগুলো প্রায়ই অন্যায়ভাবে আটক আত্মীয়দের মুক্ত করার জন্য সোনার গয়না বিক্রি করতে বা টাকা ধার করতে বাধ্য হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া সংক্রান্ত গবেষক শায়না বাউচনার কর্তৃপক্ষকে দাবিগুলো তদন্ত করার এবং দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সৈয়দ হারুনর রশিদ বলেন, প্রতিবেদনটি “প্রশ্নবিদ্ধ”।

পুলিশ স্বীকার করে যে, ক্যাম্পগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেগুলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আবাসস্থল এবং আঞ্চলিক মাদক পাচার নেটওয়ার্কগুলোর জন্য চৌকি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নিষ্পত্তি সংক্রান্ত একটি যুদ্ধের অংশ হিসেবে গত বছর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শীর্ষ সম্প্রদায়ের নেতাসহ কমপক্ষে ২০ জন শরণার্থীকে হত্যা করেছিল।

XS
SM
MD
LG