অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা বন্ধ, বিশ্ব পদক্ষেপ নিচ্ছে না: শেখ হাসিনা


আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে, মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে তার সরকার নারীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করবে। রবিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম ভিত্তিক এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ভবন কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর চেরি ব্লেয়ার এ দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ আসলে শেখ হাসিনা বলেন, “বর্তমান আফগানিস্তান সরকার জোর করে নারীশিক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে।পুরো বিশ্ব এটি প্রত্যক্ষ করছে, কেউ এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”

সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য লেখক এম নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “২০২৬ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে এবং আমরা আরও এগিয়ে যাব। আমরা আমাদের সকল উন্নয়ন কর্মসূচি পরিকল্পনা করছি। এছাড়া আমরা নারীদের সঙ্গে নিয়ে আরও এগিয়ে যাব।”

এম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে তার সরকারের প্রধান কাজ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন প্রতিনিধিদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম তৈরি করতে বলেন; যা তাদেরকে উদ্যোক্তা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ করে তুলবে। শেখ হাসিনা বলেন, “শুধু সাধারণ শিক্ষা নয়, এমন শিক্ষা প্রদান করুন যা তাদের বেকারত্ব সৃষ্টির পরিবর্তে দক্ষ করে তুলবে।” এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেছেন বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

নজরুল ইসলাম আরও জানান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “যে কোনো দেশের উন্নয়নের জন্য নারী শিক্ষা অপরিহার্য।” বৈঠকে আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ এলে শেখ হাসিনা বলেন, “ইসলামের নামে নারীদের শিক্ষা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম একজন নারী (হযরত খাদিজা) দ্বারা শুরু হয়েছিল এবং ইসলাম কখনই নারী শিক্ষার প্রতিবন্ধক ছিল না। তাদের জন্য শিক্ষা বন্ধ করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”

শেখ হাসিনা আরও উল্লেখ করেন যে ইসলাম সর্বদা নারী ও পুরুষের সমান অধিকার-এর পৃষ্ঠপোষকতা করে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার সময় নারী নেতৃত্ব নিয়েও তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার রোহিঙ্গা শিশুদের নিজ ভাষায় শিক্ষা দিচ্ছে।”

XS
SM
MD
LG