অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের পুলিশ বলছে, ঘুড়ি উৎসবে প্রাণহানির জন্য ধারালো সুতা দায়ী


ঘুড়ি উড়ানোর রিলে চাইনিজ মাঞ্জা। এটি সাধারণত সিন্থেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং সূক্ষ্ম কাচের গুঁড়োর লেপযুক্ত। এতে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ভারতে প্রতি বছর কয়েক ডজন মানুষ মারা যায় এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়।

ভারতের বার্ষিক ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা এ বছর মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রতিযোগীরা তাদের প্রতিপক্ষের ঘুড়ি নিষ্ক্রিয় করার জন্য কাঁচ মাখানো সুতা ব্যবহার করছে, যা বিপদজনক।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি ভারতের গুজরাট রাজ্যে উৎসবের সময় কাচের লেপযুক্ত ঘুড়ির সুতা দিয়ে গলা কেটে ছয়জনের মৃত্যু হয়।

উত্তরায়ণ উৎসবে অংশ নেওয়া ‘ঘুড়ি যোদ্ধাদের” ব্যবহৃত কাঁচের ধারালো সুতা গলায় জড়িয়ে, গলা কেটে মারা যাওয়া নিহতদের মধ্যে দুই বছরের একটি শিশুসহ তিন শিশু রয়েছে।

গুজরাট পুলিশ জানিয়েছে, উৎসব চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী খোলা মাঠে এবং ছাদে জড়ো হয়ে আকাশে ঘুড়ি উড়ান। এতে অন্তত ১৭৬ জন আহত হয়েছেন।

ঘুড়ি উড়ানোর সময়, যোদ্ধারা প্রায়শই কাটাকুটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘুড়ির সুতা তাদের নিজস্ব ঘুড়ির সুতা দিয়ে কেটে ফেলার চেষ্টা করতে থাকার সময় কখনও কখনও তা মাটির কাছাকাছি চলে আসে। ফলে গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটিতে জড়িয়ে পড়ে, কখনও কখনও দুর্ঘটনা ঘটায়।

ঐতিহ্যগতভাবে, ঘুড়ির সুতাগুলি ,সুতির সুতা দিয়ে তৈরি হত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ভারতীয় ঘুড়ি যোদ্ধারা তীক্ষ্ণ নাইলন বা সিন্থেটিক সুতা ব্যবহার করছে। এগুলো গুঁড়ো কাচের লেপযুক্ত, যাকে হিন্দিতে চাইনিজ মাঞ্জা বলা হয় - যা প্রায় একচেটিয়াভাবে ভারতে তৈরি। চীনে উৎপত্তি হওয়া মাঞ্জা সহজে ভেঙে যায় না।

গুজরাটের ভাবনগরে কীর্তি ঠাকুর নামে দুই বছরের এক মেয়ে তার বাবার সঙ্গে স্কুটারে চড়ে যাচ্ছিল। সেসময় তার গলায় ঝুলন্ত ঘুড়ির সুতা জড়িয়ে যায়। বাবা যখন এটি সরানোর চেষ্টা করছিলেন তখন সুতাটি আরও গভীরে প্রবেশ করে। একদিন পর সে হাসপাতালে মারা যান।

কিসমত নামে তিন বছরের একটি মেয়ে তার মায়ের সাথে হেঁটে যাবার সময় তারও গলায় ঘুড়ির সুতা জড়িয়ে গলা কেটে ফেলে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

২০১৭ সাল থেকে ভারতে মাঞ্জা নিষিদ্ধ করা হয়। ধরা পরলে ১ লক্ষ রুপি পর্যন্ত জরিমানা এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রয়েছে।

XS
SM
MD
LG