অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের জ্যেষ্ঠ নেতা গ্রেফতার


পাকিস্তানের লাহোরের একটি হাসপাতালে মেডিকেল চেকআপের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ফাওয়াদ চৌধুরীকে সাদা পোশাকে পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়ে যাচ্ছেন। ( ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩)

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধান ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সরকারের স্পষ্ট সমালোচক ফাওয়াদ চৌধুরীর গ্রেপ্তার তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দলটির দায়িত্ব পালন করছেন। দলটি এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানায় এবং তার দ্রুত মুক্তি দাবি করে।

ইমরান খান এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে টুইটারে দাবি করেন,পাকিস্তান "আইনের শাসনহীন" জায়গায় পরিণত হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই তার। তিনি অনুসারীদের মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াইয়ের আহ্বান জানান যাতে দেশটি এমন জায়গায় না যায় যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে তার পরিবার জানিয়েছে। ইমরান খানের দলের মুখপাত্র শিরিন মাজারি বলেন, লাহোরের পুলিশ চৌধুরীকে হাতকড়া পরিয়ে সরাসরি আদালতে নিয়ে যায়।

চৌধুরির স্ত্রী হিবা ফাওয়াদ সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী তার স্বামীর সঙ্গে কঠোর আচরণ করেছিল, তাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে দ্রুত নিয়ে যায়।

গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে চৌধুরীর শত শত সমর্থক তার মুক্তির দাবিতে পাঞ্জাব প্রদেশের জেহলুমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করে।

ইসলামাবাদ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধান সিকান্দার সুলতান রাজা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় মানুষকে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রবীণ সাংবাদিক মহসিন নাকভিকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সংস্থার সমালোচনা করেন চৌধুরী। ইমরান খানের দল এবং তার সহযোগীরা পাঞ্জাবে ক্ষমতায় ছিল। প্রাদেশিক পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ধরে রেখেছিল তারা। তবে এই মাসের শুরুতে পরিষদ বিলুপ্তি করে স্পষ্টতই ইসলামাবাদের সরকারকে চাপ দেয়ার চেষ্টা করে তারা।

প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেওয়ার ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরু হয়, যা সংবিধান অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

XS
SM
MD
LG